কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা ধারাবাহিক আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে চলমান ‘নিট-ইউজি’ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং তা ঘিরে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, ‘নিট-ইউজি’ পরীক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্ক যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ক্ষতির কারণ না হয় এবং ‘দেশবিরোধী শক্তি’ যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিবেচনায়ই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হিন্দিতে লেখা ওই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি জানান।
চিঠিতে সাম্প্রতিক মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত জটিলতার নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিলেও সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পক্ষেও অবস্থান তুলে ধরেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
তিনি লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি আমার দায়িত্ব স্বীকার করেছি এবং এ পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নিইনি।’
সদ্য সাবেক এই মন্ত্রী জানান, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত ‘নিট-ইউজি’ পরীক্ষায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দ্রুত তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে বিতর্কিত পরীক্ষাটি বাতিল করে দ্রুত নতুন পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষা কেন্দ্র, রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সরকারি সর্বাত্মক উদ্যোগে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো বিতর্ক চলাকালে ‘দায়িত্বশীল পদে আসীন কিছু ব্যক্তি’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত’ করেছে।
তবে চিঠিতে তিনি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি। যদিও গত কয়েক দিন ধরে ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তবে এটি তার ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার লড়াই’ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের ঐক্য অটুট রাখার প্রয়োজন থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তরসহ সারা দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে এবং দেশবিরোধী কোনো শক্তি যেন এর সুবিধা নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন অক্ষুণ্ন থাকে, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং আমাদের সন্তানেরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে সেসব নিশ্চিত করতেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
পাশাপাশি তরুণ সমাজকে ‘ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির ফাঁদে’ পা না দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন সদ্য পদত্যাগ করা এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
সময়ের আলো/আরবিএন