ওপেনার জাকির হাসানের দুর্দান্ত ও অনবদ্য সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে সাড়ে তিনশো ছাড়ানো এক বিশাল রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ এইচপি দল। পরবর্তীতে বোলারদের সম্মিলিত ও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল লড়াই করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বিশাল এই লক্ষ্য টপকাতে সক্ষম হয়নি।
সোমবার (৮ জুন) বগুড়ার শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৮৫ রানের একটি বড় ও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ এইচপি দল।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ এইচপি দল। যদিও শুরুতেই ওপেনার শাহাদাত হোসেন দীপুর উইকেট হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সেই প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে জাকির হাসান ও ইফতেখার হোসেন ইফতি মিলে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান।
দলের অধিনায়ক জাকির হাসান ৯৭ বলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ১১৯ রানের একটি অসাধারণ ও দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ইফতেখার হোসেন ইফতি ৫৮ বলে ৭০ রানের একটি কার্যকর ইনিংস উপহার দেন, যার মধ্যে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা।
পরবর্তী ব্যাটারদের মধ্যে অমিত হাসান ৩১, ইয়াসির আলি চৌধুরী ৩৪ এবং মোহাম্মদ আকবর আলি ২৭ রান যোগ করে দলের সংগ্রহকে আরও মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করান। শেষ দিকে সামিউন বশির রাতুল মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ২১ রানের একটি ঝোড়ো ক্যামিও খেললে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৬৪ রানের বিশাল পুঁজি।
জবাবে ৩৬৫ রানের বিশাল রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া ২৬ এবং ম্যাথিউ ক্যাম্পবেল ৫২ রান করে একটি ভালো লড়াইয়ের ভিত্তি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালে সফরকারীরা গভীর বিপাকে পড়ে যায়। এক প্রান্ত আগলে রেখে জিম্বাবুয়ের হয়ে একা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার ওয়েসলি মাধেভেরে।
ডানহাতি এই ব্যাটার ৯৩ বলে ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৬ রানের একটি চমৎকার শতক হাঁকান। মাধেভেরের সেঞ্চুরি এবং ক্যাম্পবেলের হাফ সেঞ্চুরি ছাড়া কেবল রায়ান বার্লের ২০ রানই ছিল উল্লেখেযোগ্য, ফলে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ৪৮.৫ ওভারে ২৭৯ রানেই পুরোপুরি গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সামিউন বশির রাতুল ও রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ সমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া আলিস আল ইসলাম ২টি এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও খালেদ আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।
সময়ের আলো/টিএইচ