চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের ঠিক পরদিনই এই ঘোষণা দেওয়া হলো।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চমেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ‘ক্যাব’ অভিযোগ করেছে যে, এর মাধ্যমে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের রোগী ও লাশ পরিবহণের নীতিমালায় বর্ণিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পুনঃমূল্যায়ন শীর্ষক এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে সাধারণ রোগীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনের প্রতিনিধিকে এই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এর আগে গত বছরের ১৮ জুন চমেক হাসপাতালে সর্বশেষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল।
স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চমেক হাসপাতালের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা তোয়াক্কা না করে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়। অন্য কোনো বাইরের অ্যাম্বুলেন্সকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে এই সিন্ডিকেটের কাছে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হন।
সভা শেষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, এক বছর আগে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা করার ছয় মাস পর থেকেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল, যা তাঁকে আগে কেউ জানায়নি। বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে এবং মালিক সমিতির মতামতের ভিত্তিতে নতুন এই ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল। তবে নির্ধারিত তালিকার চেয়ে কেউ বেশি টাকা দাবি করলে অতিরিক্ত অর্থ সমিতির নেতাদের নিজ দায়িত্বে ফেরত দিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মূল কাজ রোগীর স্বার্থ রক্ষা করা হলেও তাঁরা মালিকদের স্বার্থ দেখছেন। কোনো ধরণের নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই ছাড়া নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দরিদ্র রোগীদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে মালিকদের অন্যায় গলাকাটা ভাড়া আদায়কে আইনি বৈধতা দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে চমেক হাসপাতাল থেকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করাকে কেন্দ্র করে মালিক সমিতির সাথে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। মালিক সমিতির লোকজন এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগে ওই দিন বিকেলেই হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
সময়ের আলো/টিএইচ