প্রযুক্তি ও আইনের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম সফল হবে

সম্পাদকীয়

মতামত

দেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে গেছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। মূলত অপরাধ

2026-06-09T05:34:35+00:00
2026-06-09T05:34:35+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
মতামত
অপরাধ দমনে বদলাচ্ছে কৌশল
প্রযুক্তি ও আইনের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম সফল হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩৪ এএম   (ভিজিট : ১০)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে গেছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। মূলত অপরাধ চক্র কৌশলী ভূমিকার কাছে অনেক সময় তাদের তৎপরতা বিফলে যাচ্ছে। সে কারণে সময়ের প্রয়োজনে তাদের হতে হচ্ছে কৌশলী। 
এ পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার নয়, তাদের মূল উৎস, নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন মূলত অপরাধের মূল শিকড় ও লাইফলাইনকে চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে।

দৈনিক সময়ের আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- অপরাধীদের ‘লাইফলাইন’ বলতে বোঝায় তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি, তাদের নেটওয়ার্ক ও আশ্রয়দাতারা। এই লাইফলাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করে দিলে অপরাধচক্র পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। এ জন্য প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং আইনি কঠোরতার পাশাপাশি আর্থিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। অপরাধীদের অর্থনৈতিক উৎস ও সম্পদ ধ্বংস করতে সরকার সম্পদ জব্দ ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে ব্যাপক মনোযোগ দিচ্ছে। 

সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে অপরাধ সংগঠনের গোড়াপত্তন ও জালিয়াতির মূল উৎসগুলো চিহ্নিত ও বিচ্ছিন্ন করা। এর মধ্যে রয়েছে অর্থপাচার, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, হুন্ডি ও অনলাইন জুয়া। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের ব্যবহার করা নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। মোবাইল, সিমকার্ড, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো অচল করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।  

বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি, পাসপোর্ট অধিদফতর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে অপরাধীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেসিং ও ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধী চক্রের মূল অর্থনৈতিক উৎসগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া নতুন আইন ও প্রযুক্তির ব্যবহারে অবৈধ অর্থের লেনদেন ও সম্পদ জব্দের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ আইন পাস করা হয়েছে। এসব আইনের মাধ্যমে অপরাধীদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব দ্রুত ফ্রিজ বা জব্দ করা যাবে। 

অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ছিন্ন করতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের কাজ চলছে। ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে ব্লকচেইন অ্যানালাইসিস টুলস ব্যবহার করে ডিজিটাল ওয়ালেটের ট্র্যাকিং ও জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপরাধের মাধ্যমে টাকা পাচার রোধে দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট ও পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা চালু করা হচ্ছে। 

সার্বিকভাবে অপরাধের উৎস ও নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এটি দীর্ঘদিন পর অপরাধ চক্রের জন্য অত্যন্ত নিয়ামক ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে মনে করা হচ্ছে। যা অনেক দিনের শক্ত অপরাধ চক্রকে উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। 

প্রযুক্তি ও আইনের সমন্বয়ে এই কার্যক্রম সফল হলে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃঢ় হবে, অপরাধমূলক চক্রের মূল শক্তি ভেঙে পড়বে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ সমাজ গড়ার প্রত্যাশা করছি।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   অপরাধ  দমন  কৌশল  সম্পাদকীয় 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: