৩২ তলা ভবনের ৩৪ তলার ফ্ল্যাট বিক্রি!

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

প্রায় ৪৩ লাখ টাকা খরচ করে একটি ভবনের ৩৪তম তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি জানতে

2026-06-09T11:20:30+00:00
2026-06-09T11:20:30+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
৩২ তলা ভবনের ৩৪ তলার ফ্ল্যাট বিক্রি!
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:২০ এএম   (ভিজিট : ৬৫)
৩২ তলা ভবনের ৩৪ তলার ফ্ল্যাট বিক্রি। ছবি : সংগৃহীত
প্রায় ৪৩ লাখ টাকা খরচ করে একটি ভবনের ৩৪তম তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, যে ভবনে ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে সেটি মাত্র ৩২ তলা। ফলে ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নিজের অর্থও হারাতে বসেছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে চীনে। সোমবার (৮ জুন) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেন নামের ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ানের কাছাকাছি একটি গ্রামে ৯০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাট কেনেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তিনি তথাকথিত ‘গ্রে-মার্কেট’ আবাসন প্রকল্পের একটি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

শেন প্রতি বর্গমিটার দুই হাজার ৬৪৬ ইউয়ান দরে ফ্ল্যাটটি কেনেন, যা ওই এলাকার গড় বাজারমূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল। প্রকল্পটির দাম কম হওয়ার কারণ ছিল এর ‘সীমিত সম্পত্তি অধিকার’ মর্যাদা। এ ধরনের আবাসন সাধারণত রাষ্ট্রীয় শহুরে জমির পরিবর্তে গ্রামীণ সমবায়ী মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রকল্পে সাধারণত সরকারি অনুমোদন থাকে না এবং প্রচলিত আবাসন প্রকল্পের মতো আইনি সুরক্ষাও পাওয়া যায় না। এমনকি এগুলো আইনগতভাবে পুনরায় বিক্রি করাও সম্ভব নয়। তবু তুলনামূলক কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা এসব প্রকল্পে আগ্রহ দেখান।

ফ্ল্যাট কেনার সময় শেন এক লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান অগ্রিম পরিশোধ করেন। তার দাবি, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদপত্র পরে সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আইনি নথি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

ফ্ল্যাটটি ২০১৫ সালে হস্তান্তরের কথা থাকলেও নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়। পরে ২০১৭ সালে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেনকে জানায়, সম্পন্ন হওয়া ভবনটি মাত্র ৩২ তলা। ফলে তিনি যে ৩৪তম তলার ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, সেটির কোনো অস্তিত্বই নেই।

প্রথমে প্রতিষ্ঠানটি তাকে ৩২তম তলায় বিকল্প একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় দুই মাস পর সেই ফ্ল্যাট অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।


বাড়ি না পেয়ে শেন অর্থ ফেরতের দাবি জানান। কিন্তু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটের কথা বলে পুরো অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তিনি ২০২০ সালে ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পেলেও পরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে শেন বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যান। সেখানে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে তার অগ্রিম অর্থের বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান এবং ২৭ হাজার ইউয়ান পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন বকেয়া অর্থ পাননি। পরে স্থানীয় আদালত ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোগব্যয়-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ প্রতিষ্ঠানটির নামে কোনো নিবন্ধিত সম্পদ বা সঞ্চয় পাওয়া যায়নি। ফ্ল্যাট কেনার এক দশকেরও বেশি সময় পরও শেন এখনো বাড়ি ও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দুটোরই অপেক্ষায় রয়েছেন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   চীন  ফ্ল্যাট 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: