নওগাঁ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা

নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাদেশ

বছরজুড়েই নানা কারণে আলোচনায় থাকে সীমান্ত এলাকা। কখনও সীমান্ত হত্যা, কখনও কৃষকের ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হয়রানি। কাঁটাতারের পাশের

2026-06-09T13:14:57+00:00
2026-06-09T13:33:02+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ
নওগাঁ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:১৪ পিএম  আপডেট: ০৯.০৬.২০২৬ ১:৩৩ পিএম  (ভিজিট : ২৫)
পুশ্ইন ইস্যুতে আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে নওগাঁ সীমান্ত এলাকায়। ছবি : সময়ের আলো
বছরজুড়েই নানা কারণে আলোচনায় থাকে সীমান্ত এলাকা। কখনও সীমান্ত হত্যা, কখনও কৃষকের ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হয়রানি। কাঁটাতারের পাশের মানুষের জীবন যেন প্রতিদিনই অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার। পুশ্ইন ইস্যুতে আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে নওগাঁ সীমান্ত এলাকায়। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে দুচিন্তা বাড়ছে। 

জানা যায়, নওগাঁ জেলার সঙ্গে ভারতের ৯ টি সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া ও করমুডাঙ্গা সীমান্ত, পোরশা উপজেলার নীতপুর সীমান্ত এবং ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া, চকিলাম, চকচণ্ডি, বস্তাবর, শিমুলতলী ও তালান্দার সীমান্ত। তবে, সবচেয়ে বেশি সীমান্ত হত্যা বা কৃষকের ওপর বিএসএফের হয়রানি হয় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া ও করমুডাঙ্গা সীমান্ত এবং পোরশা উপজেলার নীতপুর সীমান্তে। গত ৫ জুন নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। যদিও বিজিবির কড়া নজরদারিতে তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।


মাঠের ফসল এসব সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সারা বছরের সঞ্চয়। তবে, ফসল ফলাতে গিয়ে বিএসএফের হাতে হয়রানি হতে হয় চাষীদের। সাপাহার উপজেলার করমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘জমিতে চাষাবাদ ছাড়া আমাদের কোনো কাজ নেই। জমিতে কাজ করতে গেলে বিএসএফ প্রায়ই আমাদের ধাওয়া দেয়। অনেক সময় সীমানা পেরিয়ে এসে ভয়ও দেখায়। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করে। তারপরও বেঁচে থাকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।’

মালেক নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘১৯৯৮ বা ২০০০ সালের দিকে আমার চাচাসহ তিনজন বাংলাদেশের জমিতে গম কাটতেছিল। সেসময় বিএসএফ তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। আমরা আমাদের জমিতে কাজ করি। তাপরও তারা বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করে। ঘাস কাটতে বা গরু চড়াতে গেলে অনেক সময় হাত-পা ভেঙে দেয়। আবার গুলিও করে।’

মাহবুব আলম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বেশিরভাগ সময়ই পুশইন আতঙ্ক চলছে। অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। বিজিবিও কঠোর অবস্থানে আছে। তারপরও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। আমরাও বিজিবিকে সহযোগিতা করছি যাতে বিএসএফ অবৈধভাবে মানুষ পাঠাতে না পারে।’

পোরশা উপজেলার নিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন জানান, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল রাত ১০ টার দিকে স্থানীয়রা দেখতে পায় বিএসএফ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করানোর জন্য সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। বিষয়টি জানাজানির পর প্রায় ২০০’র মতো মানুষ লাঠি এবং টর্চলাইট নিয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় পাহারা দেয়।’

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, ‘যেকোনও দেশে অবৈধ অধিবাসী থাকতেই পারে। তাদের নিজ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন না মেনে পুশইনের মতো ঘটনা অপরাধ।’

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবির সদস্যরা। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনও ধরনের মানবপাচার, অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

/মহু



  বিষয়:   নওগাঁ  সীমান্ত  বাসিন্দা  দুশ্চিন্তা  পুশইন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: