যশোরের অভয়নগরে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে গত দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজননও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আগস্ট মাসে নওয়াপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার আশপাশে জমে থাকা পানি, ডোবা-নালা ও বড় বড় গর্তে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া গেছে। জমে থাকা পানি ধারণকারী বিভিন্ন পাত্র পরীক্ষা করেও এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলদানি, প্লাস্টিক ও সিরামিকের টব, মাটির ও টিনের পাত্র, নারকেলের খোসা, সিমেন্টের টব, ড্রাম, জলমগ্ন মেঝে, রঙের বালতি ও প্লাস্টিকের বালতিতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। বিশেষ করে ফুল ও ফলের নার্সারিগুলোতে জমে থাকা পানিতে লার্ভার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজীব জানান, সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী চলতি বছরে অভয়নগরে এ পর্যন্ত ৪০৭ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ১৬১ জন এবং জুলাই মাসে ১২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা ৯০ জন রোগীর মধ্যে ৩০ জনই ডেঙ্গু রোগী। ফলে অভয়নগরে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
ডা. আলিমুর রাজীব আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নওয়াপাড়া পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও এডিস মশার বংশবিস্তার রোধের মাধ্যমে এর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, ডোবা-নালা ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার এবং বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সময়ের আলো/আতা