মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনবদ্য বোলিং ও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে ৮৬ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের উইকেট শিকার দিয়ে যে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তার সফল সমাপ্তি টানেন নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘ ২১ বছর পর অজিদের হারানোর গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের দল, যা এই সংস্করণে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় জয়। এর আগে দূর অতীতে ২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের শতকের ওপর ভর করে প্রথমবার অজি বধের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দল সাইফ হাসানের উইকেট দ্রুত হারালেও নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমের ৯১ বলে ৯৬ রানের দুর্দান্ত জুটি বিপর্যয় সামাল দেয়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তামিম ৪১ বলে ৪৪ রান এবং শান্ত ৫৭ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন।
এরপর তাওহিদ হৃদয়ের ৩১ রানের পর তাসকিন আহমেদের ২০ রানের ক্যামিও এবং চার বছর পর ওয়ানডেতে ফেরা ৩০ বছর বয়সী মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যারিয়ার সেরা ৭০ বলে ৮৬ রানের চোখধাঁধানো অপরাজিত ইনিংসে ভর করে স্বাগতিকরা ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নাথান এলিস সর্বোচ্চ ৩টি এবং ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট ২টি করে উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের প্রথম বলের ধাক্কায় ম্যাট শর্ট বোল্ড হলে বিপদে পড়ে সফরকারীরা। পরের ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। পাওয়ার প্লে-র পর জশ ইংলিস ও কুপার কনোলির প্রতিরোধ ভাঙেন গতিদানব নাহিদ রানা এবং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক।
এরপর কেয়ারি ও ক্যামেরন গ্রিনের চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়ে মাত্র ১৪০ রানেই অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেট তুলে নেয় স্বাগতিকরা, যা ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন স্কোরের নতুন রেকর্ড। ৪২.২ ওভারে অজিরা ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলার পর বজ্রপাত ও প্রবল বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং ম্যাচ অফিসিয়ালরা বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করেন।
বল হাতে আগুন ঝরিয়ে ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অজি ব্যাটিং লাইনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন নাহিদ রানা, যা ওয়ানডে ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি বোলারের প্রথম ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
আব্দুর রাজ্জাকের ২০০৬ সালের ৩ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড টপকে এটিই এখন অজিদের বিপক্ষে সেরা বোলিং ফিগার। অন্যদিকে ব্যাট হাতে ৮৬ রান করার পর বল হাতেও ৩৭ রানে ২ উইকেট এবং একটি অনবদ্য ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের মূল নায়ক বনে যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে দল দুটি আবার মুখোমুখি হবে।
সময়ের আলো/টিএইচ