ইংলিশ ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের নতুন চমক লুই ওয়াটসন। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির ধারায় যোগ হতে পারে আরও একটি নতুন নাম। হামজা চৌধুরী ও সামিত সোমের পর এবার আলোচনায় উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা মধ্যমাঠের খেলোয়াড় লুই ওয়াটসন। জন্ম ইংল্যান্ডে, আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলেছেন ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের হয়ে। তবে পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশে হওয়ায় লাল-সবুজের জার্সিতে তাকে দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পঁচিশ বছর বয়সী লুই ওয়াটসনের জন্ম ইংল্যান্ডের ক্রয়ডনে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার দাদা ছিলেন বাংলাদেশি। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
লুই ওয়াটসন। ছবি: সংগৃহীত
শৈশব থেকেই ইংল্যান্ডের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল পরিবেশে বেড়ে ওঠেন লুই। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের বয়সভিত্তিক একাডেমিতে ফুটবলের হাতেখড়ি হয় তার। পরে ডার্বি কাউন্টি, লুটন টাউন ও চার্লটন অ্যাথলেটিকের মতো পরিচিত ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি ক্রাউলি টাউনের হয়ে খেলছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার অভিজ্ঞতা। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার পর আয়ারল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ফলে বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেকে প্রমাণ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই মধ্যমাঠের খেলোয়াড়ের।
তবে লুইকে বাংলাদেশের জাতীয় দলে আনার আলোচনা নতুন নয়। লাল-সবুজের সাবেক প্রধান কোচ জেমি ডে অনেক আগেই তাকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগের অভাবে বিষয়টি আর এগোয়নি।
লুই ওয়াটসন। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হামজা চৌধুরী ও সামিত সোমের পর লুই ওয়াটসনের বিষয়েও আশাবাদী ফুটবল-সংশ্লিষ্টরা।
এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ইংল্যান্ডের ফুটবলে গড়ে ওঠা আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারকে খুব শিগগিরই লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের মধ্যমাঠে নতুন শক্তি হিসেবে লুই ওয়াটসনের আগমন দেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।