খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের মাইনী নদীর উপর নির্মিত অস্থায়ী বেইলি সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজারের বেশি হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় যানবাহনের পাশাপাশি পর্যটকবাহী গাড়ি, সীমান্ত সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সিমেন্ট, ইট, পাথর, বনজ কাঠ ও বাঁশবোঝাই ভারী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করছে সেতুটির উপর দিয়ে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেতুর ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। জ্যামে আটকে ভোগান্তিতে পরছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষার্থী, পর্যটক, সাধারণ মানুষ, গাড়ি চালকসহ অন্যান্যরা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় চার দশক আগে অস্থায়ী ভিত্তিতে মাইনী নদীর ওপর ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ ও ২০২৩ সালে কাঠ ও পাথর বোঝাই ট্রাক সেতু পারাপারের সময় পাটাতন ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকবার সাজেক পর্যটন কেন্দ্রসহ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরোনো সেতুটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ভেঙে বারবার সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান দেখা যায়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
পর্যটকবাহী গাড়ি চালক মো. রিয়াজুল বলেন, সাজেকে পর্যটক নিয়ে যাওয়ার সময় মাইনী ব্রিজের এই বেইলি সেতুতে জ্যামে আটকে অনেক সময় বাঘাইহাট থেকে সেনাবাহিনীর সাড়ে ১০টার স্কট মিস হয়ে যায়। পরে বিকেলের স্কটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এতে করে পর্যটকসহ আমরা গাড়ি চালকদের বেশ ভোগান্তিতে পরতে হয়।
ট্রাক চালক মো. সুমন বলেন, ট্রাকে পণ্য নিয়ে যাওয়া বা আসার সময় সেতুটি দুলতে থাকে। এর আগে কয়েকবার কাঠ ও পাথর নিয়ে সেতুটি ভেঙে পরেছে। তাই পণ্য নিয়ে পারাপারের সময় একটু দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। যে-কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
কবাখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা (জ্ঞানো) বলেন, এই বেইলি সেতু দিয়ে দুটি গাড়ি একই সঙ্গে পারাপার হতে না পারায় অনেক সময় কবাখালি স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে সেতুর অপর পাশে ফায়ার সার্ভিস ও বাবুপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স, পর্যটকসহ সব শ্রেণির মানুষকে ভোগান্তিতে পরতে হয়। তার উপর সেতুটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে-কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, মাইনী বেইলি সেতুটি সেনাবাহিনীর ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (২০ ইসিবি) তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পরিবর্তে একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক এই সড়কে সাজেক ভ্রমণ করে। তাই বাঘাইছড়ি ও লংগদু অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়া সত্ত্বেও সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
সময়ের আলো/জোই