লক্ষাধিক শ্রমশক্তি রফতানি করতে চায় সরকার

সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

চলতি মাসেই মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

2026-06-10T06:17:41+00:00
2026-06-10T06:17:41+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
জাতীয়
লক্ষাধিক শ্রমশক্তি রফতানি করতে চায় সরকার
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ এএম   (ভিজিট : ১০)
প্রতীকী ছবি
চলতি মাসেই মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ।

সরকারের লক্ষ্য- এক বছরের মধ্যে লক্ষাধিক শ্রমশক্তি মালয়েশিয়ায় রফতানি করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব যদি গমন প্রক্রিয়া সিন্ডিকেটমুক্ত করা যায়।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ জুন ওই দেশ সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রফতানি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির আশা করছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজারের জট খুলতে পারে। আবারও বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসতে পারে। 

তবে শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার একটি ইঙ্গিতও দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। 

মন্ত্রী সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের টার্গেট আগামী অর্থবছরে ২ লাখেরও বেশি শ্রমশক্তি রফতানি করা। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিষয়গুলো সমন্বয় করছেন। আমি এখন সুইরাজল্যান্ডে অবস্থান করছি। ১৬ জুন ঢাকায় ফিরব। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ায় সফরসঙ্গী হব। বিস্তারিত আরও পরে বলা যাবে। 

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই, ২০২৫ থেকে ৩১ মে, ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সময়ের আলোকে বলেন, মালোশিয়া আমাদের দ্বিতীয় শ্রমবাজার। আগামী এক বছরে এক-দেড় লাখ শ্রমশক্তি রফতানি করার চিন্তা আছে সরকারের। 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া এই সফরে বহুপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়গুলোও সামনে আসবে। 

এ প্রসঙ্গে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর একজন কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, সিন্ডিকেট দূর ও দুই সরকারের সদিচ্ছা থাকলে লক্ষাধিক শ্রমশক্তি রফতানি করা ব্যাপারই না। আগের সরকার তো সিন্ডিকেটের কব্জায় সফল হতে পারেনি। আমাদের চাওয়া মালয়েশিয়া যাতে দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করে দেয়।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা সময়ের আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করবে। 

সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করছেন। সরাসরি মালয়েশিয়া সরকারের কাছে শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন। এই সফর এ জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সরকারপ্রধান হিসেবে মালয়েশিয়ায় এ সফরের মধ্য দিয়ে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। আর প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নির্বিঘ্ন ও সাফল্যমণ্ডিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনাসহ ব্যস্ত সময় পার করছেন মালয়েশিয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। মালয়েশিয়া থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন সফরে যেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। 

২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তির বাজার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বন্ধ রয়েছে। একই বছরে মালয়েশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের ৩১ মের মধ্যে দেশটিতে যেতে হবে।

এরপর কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না। ওই তারিখের পর থেকে আর কোনো কর্মী যেতে পারেননি দেশটিতে। এরপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দফায়-দফায় চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে পারেনি।

বিএনপি সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি বাজার আবার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। 

ওই সময় মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এই বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়।

এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দ্রুতই বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজারটি খোলার সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথমবার বন্ধ হয় ২০০৮ সালে। 

এরপর ২০১৬ সালে শ্রমবাজারটি আবার খোলা হলেও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০১৮ সালে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর ২০২২ সালে বাজারটি আবার খুললেও ২০২৪ সালে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ওই বছরের ৩১ মে বন্ধ হওয়া দেশটির শ্রমবাজার এখনও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খোলেনি।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। 

সম্প্রতি তিনি বলেন, আমরা চাই স্বল্প খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেন আমাদের মানুষ যেতে পারে। মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি এই প্রক্রিয়াটাকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন সেটি যেন করে।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে না পারলে বাংলাদেশ বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে পড়বে বলে জাতীয় সংসদে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তির জোগান বাড়াতে না পারে, তা হলে বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিস উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নোটিসটি গ্রহণ না করলেও বিষয়টির ওপর ২ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। 

এ সময় নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, কথায় আছে, গতিতে জীবন আর স্থিতিতে মরণ। দক্ষ জনশক্তির গতি একটি দেশকে সামনের দিকে অগ্রসর করে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে এই খাত থেকে জিডিপিতে প্রায় ৭ শতাংশ অবদান এসেছে। 

তিনি বলেন, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই অদক্ষ ও স্বল্পশিক্ষিত। 

অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে উন্নত প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে, ফলে কম দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ক্রমেই কমে আসছে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ইতিহাস তুলে ধরে বিএনপির ওই সংসদ সদস্য বলেন, আশির দশকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এ যাত্রার সূচনা হয়েছিল। 

মধ্যপ্রাচ্যের এক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।

/এসএকে


  বিষয়:   লক্ষ  শ্রমশক্তি  রফতানি  সরকার  বিদেশ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: