প্রধানমন্ত্রীকে কী উপহার দেবেন ভারতীয় হাইকমিশনার

এমএকে জিলানী

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আগামীকাল সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই

2026-08-09T00:20:04+00:00
2026-08-09T00:20:04+00:00
 
  রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীকে কী উপহার দেবেন ভারতীয় হাইকমিশনার
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আগামীকাল সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই হবে ভারতীয় দূতের প্রথম সাক্ষাৎ। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে চলমান টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিতে এই সাক্ষাতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ বার্তা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন চলছে, ঠিক এমন একসময়ে ভারতের মোদি সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি কূটনীতিকের পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকও। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দুই বাংলার বিষয়ে দীর্ঘদিনের জানাশোনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে চায় দিল্লি। তবে দীনেশ ত্রিবেদী শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক কতটা এগিয়ে নিতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময় কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী উপহার নিয়ে যাবেন দীনেশ ত্রিবেদী। তবে সেই উপহারে চমক থাকতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অতীত সম্পর্কের কোনো স্মারক বা প্রসঙ্গ কেন্দ্র করে এই উপহার হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত। এর মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্কে দ্রুত স্বস্তি ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক বার্তাও দেওয়া হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনার দুদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ বার্তা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। ওই ঘটনার আগে ও পরে ভারতীয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভারত সরকার আমলে নেয় না। ওই অনুষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের আয়োজনে হওয়ায় সেখানে ভারতের করার কিছু ছিল না বলেও দাবি করা হয়।

গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাব। আমি এমন একটি সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আছি, যার মূল ভিত্তি হলো উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ।

দীনেশ ত্রিবেদী গত ১২ জুন বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে আসেন। স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। পরে গত ২৫ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি। পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার। একই সময়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসাসেবা স্বাভাবিক করার ঘোষণাও দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সীমিত করা হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করে আবারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় দিল্লি। এ কারণেই পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের ওপর আস্থা রেখেছে মোদি সরকার।


এ ক্ষেত্রে সাবেক মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে উপযুক্ত মনে করেছে দিল্লি। দুই বাংলা সম্পর্কে তার দীর্ঘদিনের জানাশোনা রয়েছে। তিনি সাবলীল বাংলাও বলতে পারেন। কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে পড়া ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে নতুন করে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে দীনেশ ত্রিবেদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

পঁচাত্তর বছর বয়সি দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম নয়াদিল্লিতে। তিনি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান।তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন। আশির দশকে তিনি কংগ্রেসে যোগ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। 

২০০২-২০০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। 

২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ, কিন্তু ওইবার তিনি বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। এরপর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশ ত্রিবেদীর। এর ধারাবাহিকতায় গত ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং গত ৬ মার্চ তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  উপহার  ভারতীয় হাইকমিশনার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: