স্কোরকার্ড দেখে চোখ কপালে উঠবে অনেকের। হয়তো হিসাবও মেলাতে চাইবেন কেউ, সত্যিই কি এতটা খারাপ করেছে বাংলাদেশ? প্রস্তুতি ম্যাচে জয়-পরাজয় সাধারণত খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। কিন্তু ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে বাংলাদেশ যা করল, সেটিকে আর সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। তিন দিনের ম্যাচে ৮ জন ব্যাটার নিয়ে খেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ শুরুর মাত্র চার দিন আগে এমন ব্যাটিং ধস তাই নিঃসন্দেহে বড় সতর্কবার্তা।
প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের ১০৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ধস সামলে ২৬৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩ উইকেটে ৩৫৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসেই নেমে আসে বিপর্যয়। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন বাঁ-হাতি পেসার ক্যাম্পবেল থমসন। আগের দিন শেষ বিকালে দুটি উইকেট নেওয়ার পর তৃতীয় দিনে আরও ছয়টি শিকার করেন তিনি। সব মিলিয়ে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নিয়েছেন ২২ বছর বয়সি এই পেসার।
থমসনের এই পারফরম্যান্সের গুরুত্ব আরও বেশি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা মাত্র একটি ম্যাচের। তার ওপর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে সাড়ে পাঁচ মাস পর এই ম্যাচ দিয়েই ফিরেছেন তিনি। এমন প্রায় আনকোরা এক পেসারের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অসহায় আত্মসমর্পণ এখন অস্ট্রেলিয়ার মূল দলের বাঁ-হাতি পেসার মিচেল স্টার্ককে সামলানো নিয়েও শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সঙ্গে থাকছেন প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন তানজিদ হাসান। দুই চার ও এক ছক্কায় এই রান করেন তিনি। এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যান ৭ রানও করতে পারেননি। অতিরিক্তসহ দলের বাকি সবাই মিলে যোগ করেছেন মাত্র ৩২ রান।
মারারা ওভালের উইকেটও ব্যাটসম্যানদের জন্য ভয়ংকর কিছু ছিল না। খুব বেশি বাউন্সও ছিল না। মূলত থমসনের হালকা সুইং, স্কিড করা বল এবং টেকনিকের পরীক্ষা নিতে থাকা ডেলিভারিগুলোর কাছেই অসহায় হয়ে পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
আগের দিনই থমসন ফেরান সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে। তৃতীয় দিনে প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাট করা সৌম্য সরকারকে চারে নামানো হলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খোঁচা মেরে সিøপে ক্যাচ দিয়ে ৬ রানে ফেরেন তিনি। এরপর মুশফিকুর রহিমের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে ঢুকে বোল্ড করেন থমসন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরার পর এবার ২ রানেই থামেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
এরপর ২২ রান করা তানজিদকে অন সাইডে খেলতে গিয়ে ভারসাম্য হারানোর সুযোগে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। থমসনের উইকেট-উৎসবের মাঝেও ছাপ রাখেন কোরি রকিচ্চলি। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া এই অফ স্পিনার মাত্র চার ওভার বল করেই ফেরান অমিত হাসান ও প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মিরাজকে।
এরপর টানা দুই বলে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনকে বোল্ড করে ম্যাচ শেষ করেন থমসন। শেষ পাঁচ উইকেটের পতন হয় মাত্র ৯ রানের মধ্যে।
এমন পারফরম্যান্সে হতাশ বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতায় তিনি পুরোপুরি ভেঙে পড়ছেন না।
সময়ের আলো/এসএকে