জন্মের পর দীর্ঘ ২৭ বছর বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন ছেলে। অবশেষে, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলায় বাবা তাকে স্বীকৃতি দিয়ে বুকে টেনে নিলেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বাবার কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি পেয়েছেন ছেলে।
শিশুটির যখন জন্ম হয়, তখন তার বাবা বিদেশে ছিলেন। জন্মের আগেই মা–বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় শিশুটি বড় হতে থাকে মামার বাড়িতে। ততদিনে তার বাবা পুনরায় বিয়ে করেছেন। বাবা দেশেই আছেন জেনে তিনি তার মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চান সন্তানের স্বীকৃতি। কিন্তু বাবার কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি মেলে না। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ২০২৪ সালের জুন মাসে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ‘লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম’ কার্যালয়ে বাবার স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন ছেলে। মঙ্গলবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি তার কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পান।
জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে মা, বাবা ও ছেলের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। তারপর নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছেলের দাবি সঠিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএ প্রতিবেদনটি লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে পাঠায়। তারপর বাবা স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার করা, ঘর তৈরির জন্য দুই লাখ টাকা, পাড়া–প্রতিবেশীসহ আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সন্তানকে পরিচয় করে দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকারনামা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, আবেদনের পর লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ে হাজির হন বাবা। কিন্তু ছেলেকে স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিলেন না। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলায় ছেলেকে মেনে নেন।
চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এরশাদুল ইসলাম এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাবা ও ছেলের পুনর্মিলনের দৃশ্যে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।’
এত বছর পর স্বীকৃতি পেয়ে ছেলেও খুব খুশি। এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘স্বীকৃতি পাওয়ার দরুণ আমাকে আর কারও কটু কথা শুনতে হবে না। এটি অনেক বড় আনন্দের।’
/মহু