ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার ধ্বংসের জেরে ইরানের

2026-06-10T11:28:02+00:00
2026-06-10T11:28:02+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ এএম   (ভিজিট : ২২)
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার ধ্বংসের জেরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর, এবার মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে তেহরান। 

বুধবার (১০ জুন) ইরান সরাসরি জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।   

গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবিটি এখন প্রশ্নের মুখে- যেখানে তিনি বারবার বলছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি একদম ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সাইরেন 

বুধবার (১০ জুন) ভোরে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস’ (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-র মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে তারা দাবি করেছে, ইরানি বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জর্ডানের একটি বিমান ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের আস্তানা এবং আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন কমান্ড সেন্টারসহ চারটি প্রধান লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করেছে।  

তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ধেয়ে আসা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে তাদের কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এই সংঘাতের আঁচ দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর আরেকটি প্রধান ঘাঁটিতে হামলার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পুরো বাহরাইন জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে। 

একই সঙ্গে কুয়েতের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অজ্ঞাত ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’র বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছে।

এই পাল্টা আঘাতের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ঘোষণা করেছিল যে, তারা ইরানের ওপর তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘সম্পূর্ণ’ করেছে। সেন্টকম জানায়, মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো নিখুঁত ও আধুনিক গোলাবারুদ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর কাছে থাকা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে-কোনো হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।’

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার এই জোরালো বিমান হামলার পর ইরানের দক্ষিণ উপকূলে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অথচ এর ঠিক কিছুদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ শেষের আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং আর মাত্র ‘দুই থেকে তিন দিন’ সময় লাগবে। কিন্তু সোমবার মার্কিন হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হওয়ার পর ট্রাম্পের সুর বদলে যায়। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এই ধৃষ্টতার অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দিচ্ছে।”

লেবানন সংকট ও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা

ইরান শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যে-কোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হলো লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা। গত ২ মার্চ থেকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৩,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। 

সর্বশেষ মঙ্গলবারও (৯ জুন) লেবাননের ঐতিহাসিক টায়ার শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার ফলে পুরো শহরটি এখন খালি করে বাসিন্দারা উত্তর দিকে পালাচ্ছেন। 


এদিকে নতুন করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ উন্মুক্ত করার আশাও ম্লান হয়ে গেছে। ইরান এই প্রণালীটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও এক শতাংশ বেড়ে গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালী কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমা নয়, এটি ইরান ও ওমানের অংশ। নিজেদের নিরাপত্তা চাইলে বিদেশি বাহিনীগুলোর অবিলম্বে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।’ 

এপ্রিলে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হারানোর পর, এই ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টারটি হলো আমেরিকার দ্বিতীয় কোনো বড় যুদ্ধবিমান যা ইরানের আঘাতে ধ্বংস হলো। পেন্টাগন ও সেন্টকম জানিয়েছে, ওমান উপকূলে বিধ্বস্ত হওয়া ওই হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে মার্কিন সি ড্রোনের মাধ্যমে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ক্ষণস্থায়ী শান্তিচুক্তি এখন খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে।  

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   শান্তি চুক্তি  মধ্যপ্রাচ্য  যুদ্ধের দামামা  ইরান যুদ্ধ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: