মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে এক অভিনব উদ্ধার অভিযান চালাল মার্কিন নৌবাহিনী। সাগরে ইরানি হামলায় বিধ্বস্ত একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ‘অ্যাপাচি’-এর দুই ক্রুকে সফলভাবে উদ্ধার করতে এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে চালকহীন সমুদ্রযান বা 'সি ড্রোন'।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সামরিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে সমুদ্র থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সরাসরি কোনো চালকহীন জলযান ব্যবহার করা হলো।
অভিযানে অংশ নেওয়া স্বয়ংক্রিয় সি ড্রোনটির নাম ‘সারোনিক কর্সেয়ার’। প্রায় ২৪ ফুট (৭.৩ মিটার) দৈর্ঘ্যের এই বিশেষ ড্রোনটি কোনো মানুষের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই সাগরে ভাসমান দুই সেনাকে খুঁজে বের করে এবং তাদের সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে সেখান থেকে সামরিক হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করা হয়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক। পেন্টাগন দীর্ঘদিন ধরেই খরচ কমাতে এবং দ্রুত সাড়াদানের উদ্দেশ্যে প্রথাগত সমরাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছিল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনী ‘টাস্ক ফোর্স ৫৯’ নামে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করে, যার মূল কাজই হলো চালকহীন সামুদ্রিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও পরিচালনা করা। এই ইউনিটের তত্ত্বাবধানেই ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘কর্সেয়ার’ সিরিজের ড্রোনগুলো মোতায়েন করা শুরু হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু সমুদ্রের উপরিভাগেই নয়, পানির নিচেও কাজ করতে সক্ষম এমন আরও অত্যাধুনিক ও গোপনীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন তারা। শুরুর দিকে কিছু কারিগরি ও পরিচালনগত জটিলতা থাকলেও, ভবিষ্যতে সমুদ্রসীমায় এমন হাজার হাজার স্বয়ংক্রিয় যান মোতায়েনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে পেন্টাগনের।
সময়ের আলো/জেডি