দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। গত মঙ্গলবার (১১ জুন) গভীর রাতে জোহানেসবার্গের ক্লিভল্যান্ড এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা জুড়ে সশস্ত্র খুনিদের খোঁজে ব্যাপক চিরুনি অভিযান (ম্যানহান্ট) শুরু করেছে পুলিশ।
ক্লিভল্যান্ড পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, একটি সাদা রঙের ‘টয়োটা কোয়ান্টাম’ মাইক্রোবাসে করে ১০ জনেরও বেশি সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ক্লিভল্যান্ডের একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে এসে নামে। এরপর তারা দুই দিক থেকে ওই বসতিটিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজনকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে থাকে। নারকীয় তাণ্ডব চালানোর পর খুনিরা আবার সেই একই গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে পুলিশ ওই এলাকায় গোলাগুলি চলার খবর পায়। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দল (ইএমএস) ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারীসহ মোট ১১ জন প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ বাকি নয়জনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও উদঘাটন করতে পারেনি প্রশাসন। পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল তা এখনও সম্পূর্ণ অজানা এবং এটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় এ ধরনের গণ-গোলাগুলির (মাস শুটিং) ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত বছরও জোহানেসবার্গের একটি সরাইখানায় (ট্যাভার্ন) একই রকম এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
/কহু