মসজিদ খোলা রাখার সুফল

মীযান মুহাম্মদ হাসান

ইসলাম

নামাজ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলামে যার গুরুত্ব অনেক বেশি। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে নামাজ।

2026-06-10T15:04:11+00:00
2026-06-10T15:04:11+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ইসলাম
মসজিদ খোলা রাখার সুফল
মীযান মুহাম্মদ হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম   (ভিজিট : ১৯)
সংগৃহীত ছবি
নামাজ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলামে যার গুরুত্ব অনেক বেশি। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ  জামাতের সঙ্গে আদায় করার ফজিলতও অনেক। কিন্তু যারা জামাতে নামাজ আদায়ে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, ব্যস্ততার কারণে কিংবা ভ্রমণজনিত কারণে জামাত শেষ হওয়ার পর মসজিদে এসেছেন একাকী নামাজ আদায় করবেন; তারা এসে দেখেন মসজিদ তালাবদ্ধ। তখন বিপদে পড়ে যান। শহর এলাকার প্রায় মসজিদের চিত্রই এমন। অধিকাংশ মসজিদ নামাজের পরেই বন্ধ হয়ে যায়।

 জামাতের পর যারা আসেন, তারা নামাজ পড়তে পারেন না। তাই হয়তো কখনো সেই ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়ে যায়। আবার শহরের মসজিদগুলোতে ফরজ নামাজের জামাতের পরেই মসজিদে বা বারান্দায় কিছু মানুষ একটু আরাম ও বিশ্রাম করতে চান। এই বিশ্রাম গ্রহণ করাটাও দোষের কিছু না। বিশেষত রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি এলাকার মসজিদগুলোতে মুসাফিরদের জন্য একটু বসার স্থান করে দেওয়া উচিত। যাতে একজন মুসল্লি আরামে ওজু ও ইসতিঞ্জা সেরে নামাজ পড়তে পারেন। নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষাও করতে পারেন।

অনেক মসজিদে নামাজের পর এসি বা ফ্যানের নিচে কয়েক মিনিট বসাও যায় না। দায়িত্বশীল মুয়াজ্জিন বা কেউ এসে বন্ধ করে দেন। এতে মুসাফিরদের কষ্ট হয়। ক্লান্ত মুসাফির পথিকও একজন মেহমান। তারও কিছু হক রয়েছে। হ্যাঁ, কিছু দুষ্ট লোক আছে, যারা মসজিদের বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে। হারানো যায় অনেক জিনিস। অবশ্যই নিরাপত্তার জন্য যথাসময়ে মসজিদ তালাবদ্ধ করে দেওয়া উচিত। তবে দায়িত্বশীলদের জন্য করণীয় হচ্ছে, তারা প্রতি নামাজের পর কিছু সময় মসজিদ বা বারান্দা খোলা রাখবেন, পথচারী, মুসাফিরদের নামাজ আদায় ও বিশ্রামের জন্য।

সম্মানিত মসজিদ কমিটিরও এ বিষয়গুলো বোঝা উচিত। মসজিদে আগত সব মুসল্লি যাতে আরামে একটু সময় বসতে পারেন। নামাজ ও জরুরি প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন। প্রফুল্লচিত্তে ইবাদত করতে পারেন। এই ব্যবস্থা অন্তত রাখা দরকার আমাদের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনসংলগ্ন মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কমিটির।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘পুণ্য রয়েছে তোমাদের জন্য, যারা অর্থের প্রতি ভালোবাসা সত্ত্বেও; আত্মীয়স্বজন, পিতৃহীন, অভাবী মুসাফির, ভিক্ষুক ও দাসমুক্তির জন্য দান করেন’ (সুরা বাকারা : ১৭৭)। এ আয়াতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মুসাফিরদের জন্যও খরচ করতে বলা হয়েছে। আমরা যদি পথচারী মুসাফির ভাইদের জন্য অন্তত এ খেদমত করতে পারি। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা আমাদের দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন।

এ ছাড়া হাদিসে কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা দৃষ্টিপাত করবেন না। পবিত্র করবেন না মর্মে এমন এক ব্যক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, ‘যার কাছে প্রয়োজন অতিরিক্ত পানি আছে। অথচ সে তা কোনো মুসাফিরকে দিতে অস্বীকার করে’ (বুখারি : ২৩৫৮)। এ হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, মুসাফিরের হক আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যথা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পথচারী ও মুসাফিরদের সেবায় আমাদের উত্তম অর্থসম্পদ ব্যয় করার তওফিক দান করুন। মসজিদে ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখার তওফিক দান করুন।

এএডি/

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: