বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার সাইলো সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি টেকসই আরসিসি ঢালাইয়ে নির্মাণে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার সাইলোতে ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটি সাইলো (চাল ও গম সংরক্ষণাগার) এবং ২৫ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি সার গুদাম রয়েছে। এসব স্থাপনায় যাতায়াতের জন্য খাঁড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভারী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি দমদমা, সান্দিড়া, কাজিপুর, তাঁরাপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান চলাচলের পথ হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহনের চাপ ও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়ে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের নজরে আসে। এরপর সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ পেয়েছে নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এ. ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)।
চলতি বছরের ৩ মার্চ কাজ শুরু হয় এবং ৩০ জুন ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইলোর প্রধান ফটকের সামনে থেকে কাজ শুরু করে। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের গাইডওয়ালে নির্ধারিত গভীরতায় মাটি না খুঁড়ে মাত্র কয়েক ইঞ্চি খনন করা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ও পুরোনো ইট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ে ১০ মিলিমিটার রড, নিম্নমানের পাথর, ময়লাযুক্ত বালু এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক নির্মাণে পুরোনো কার্পেটিং তুলে যথাযথভাবে রোলার বা ভাইব্রেটর দিয়ে কমপ্যাকশন করার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং বিদ্যমান কার্পেটিংয়ের ওপর বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাই কাজ চালানো হচ্ছে।
এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পের অনুমোদিত ইস্টিমেট অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্ন হলে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে অভিযোগগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তারা প্রকল্পের কাজে কঠোর তদারকি এবং মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) এ টি এম কাউছার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
/এসএকে