মেহেরপুরে বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব, ৮ মাসে নিহত ৬

মেহেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে বেড়েছে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব। ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকেই, তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে

2026-08-17T23:10:23+00:00
2026-08-17T23:10:23+00:00
 
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
মেহেরপুরে বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব, ৮ মাসে নিহত ৬
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পিএম 
বিষধর কালাচ সাপ। ছবি : সংগৃহীত
মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে বেড়েছে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব। ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকেই, তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। গত ৮ মাসে এই সাপের কামড়ে অন্তত ৬ জন মারা গেছেন বলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে আনন্দবাস গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় কালাচ সাপের ছোবলে মারা গেছে ৫ বছর বয়সি তানভির নামের এক শিশু।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুর রহিম জানান, আনন্দবাস গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলামের শিশুপুত্র তানভির পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বারান্দায় খাটের উপরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোর রাতে তাকে কালাচ সাপে ছোবল দেয়। পরিবারের লোকজন সাপটি মারার চেষ্টা করে। কিন্তু শিশু তানভিরের শারীরকি অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসে পরিবারের সদস্যরা।

আহত সাপটি লুকিয়ে পড়ায় তা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশু তানভিরকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যায়। পরিবারের লোকজন সাপের রং ও আকার দেখে কালাচ সাপ বলে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে কালাচ সাপ আতংক বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।

একই এলাকার বকুল হোসেন বলেন, সাপটি এলাকায় কমনক্রেট বা কালাচ অথবা শিয়াড়চাঁদা সাপ বিষধর ও ভয়ংকর সাপ হিসেবে পরিচিত। গেল দুই মাস ধরে বিভিন্ন গ্রামে কালাচ সাপের অস্বাভাবিক উপস্থিতিতে দিশেহারা পড়ে পড়েছে মানুষ। মাঠের ক্ষেতে এবং বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়ে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। কালাচ সাপ মূলত রাতের আধারে ইঁদুর বা পোকামাকড় তাড়া করে মানুষের ঘরে ঢুকে পড়ে।


সাপের উপরে আঘাত পড়লে মানুষকে ছোবল দেয়। বিভিন্ন গ্রামে বসতবাড়িতে রাতের আধারে ঢুকে পড়ছে কালাচ সাপ। সম্প্রতি কয়েকটি গ্রামে কালাচ সাপ মারার ঘটনায় এলাকায় মানুষ ভীতির মধ্যে পড়েছেন। কালাচের ছোবলে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকেন্দার আলী বলেন, বর্ষাকালে এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে, তাই এই সাপ থেকে বাঁচতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক সময়ের আলোকে জানান, রাতের আঘারে ঘুমন্ত মানুষকে ছোবল দেয় কালাচ। তাই সাপের কামড় সন্দেহ হলে দ্রুত হাসাপাতালে রোগী আনতে হবে। একইসাথে রাতে ও দিনে সাবধানে চলাচল এবং বাড়ির পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পরামর্শও দেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মাসে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের শিকার ৭৭ জন চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে কালাচের দংশনের শিকার ছিলেন বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছে অন্তত ৬ জন।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   মেহেরপুর  বিষধর  কালাচ সাপ  উপদ্রব  নিহত  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: