শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠের পাশে কাশফুলের দোলা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বোয়ালখালীজুড়ে বাড়ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের ব্যস্ততা। কোথাও মাটির প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও বাঁশ-খড় দিয়ে মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা। আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা আর নিরাপত্তার প্রস্তুতিতে দিন-রাত ছুটছেন আয়োজকেরা। সব মিলিয়ে পূজার আগমনী বার্তায় উৎসবের রঙে সেজে উঠতে শুরু করেছে বোয়ালখালী।
সরেজমিনে শুক্রবার (২ অক্টোবর) উপজেলার আমুচিয়া মাস্টার বাজার এলাকার শ্রী শ্রী রামঠাকুর শিল্পালয়ে দেখা যায়, দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে। মাটি, পাট, সুতা ও খড়সহ বিভিন্ন উপকরণে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে প্রতিমাগুলো।
প্রতিমাশিল্পী শানু দেব জানান, এ বছর তারা ১৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। ছয়জন মিলে কাজ করছেন। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। বাইরের কাজ শেষ হলেও কারখানায় কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। পাট ও মাটির দামও আগের তুলনায় বেশি। কাজের শুরুতে চাপ থাকলেও প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে স্থাপন করার পর অন্যরকম আনন্দ পান তারা।
অন্যদিকে আমুচিয়া এলাকার নবারণ সাহিত্য পরিষদ পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। সাজসজ্জার দায়িত্বে থাকা সাজু দেব বলেন, প্রায় তিন মাস আগে তারা কাজ শুরু করেছেন। এখনও পুরো কাজ শেষ হয়নি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন।
বোয়ালখালীর কয়েকটি পূজামণ্ডপে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এর মধ্যে বীণাপাণি ও দেবান পাঠাগার পূজামণ্ডপ অন্যতম। শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, এসব মণ্ডপে বিভিন্ন থিমে সাজসজ্জা করা হয়। চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মণ্ডপ দেখতে আসেন।
পূজা চলাকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি থাকবে। স্থানীয়ভাবেও সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
বীণাপাণি পূজামণ্ডপের রতন কৃষ্ণ পাল দেবীদুর্গার প্রতিমায় রংতুলির আঁচড় দিতে দিতে বলেন, ১৫ বছর ধরে বীণাপাণিতে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি। প্রতি বছর একেক রূপে দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে থাকেন। এবার দেবী দুর্গাকে অন্নপূর্ণা রূপে সাজিয়েছেন।
পূর্ব শাকপুরা মাতৃমন্দিরের পূজারি বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ১০ অক্টোবর মহালয়া শুরু হচ্ছে। এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়।
নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পূজা চলাকালে থাকবে সার্বক্ষণিক তদারকি।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, উপজেলায় ৯৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সব কটি মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে এসআরবি টহল টিমও। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এবার বোয়ালখালী উপজেলায় ৯৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী এবং ৮৭টি অস্থায়ী মণ্ডপ। স্থায়ী মণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা হলেও প্রতিমা বিসর্জন হবে না। অস্থায়ী মণ্ডপগুলোতে পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা