নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় টাকা ছাড়া সিগারেট না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৫) নামে মুদি দোকানদারের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এক যুবক। অগ্নিদগ্ধ ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশের তাৎক্ষণিক ও সাঁড়াশি অভিযানে মূল অভিযুক্ত যুবক মো. সুমনকে (৩০) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাহিতপুর বাজারের কেন্দুয়া-আঠারোবাড়ী সড়কের পাশে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে মুদি দোকান চালাতেন ইব্রাহিম খলিল। তিনি কেন্দুয়া থানার চেংজানা গ্রামের মো. সুলতান উদ্দিনের ছেলে। প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার রাতে তিনি দোকানে বেচাকেনা করছিলেন। এসময় একই গ্রামের মৃত কদে নেওয়াজের ছেলে মো. সুমন দোকানে এসে বাকিতে বা বিনা টাকায় সিগারেট দাবি করে। ইব্রাহিম তাকে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সুমন চরম ক্ষীপ্ত হয়ে দোকানে বিক্রির জন্য রাখা বোতলভর্তি পেট্রোল নিয়ে সে আকস্মিকভাবে দোকানের সামনে ও ভেতরে ছিটিয়ে দেয়। নিজের কাছে থাকা গ্যাস লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে দোকানের চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই গ্রাস করে নেয় দোকানি ইব্রাহিম খলিলকে। চিৎকার করতে করতে দোকান থেকে বেরিয়ে আসছেন ইব্রাহিম। তার সমস্ত শরীর আগুনে ভয়াবহভাবে ঝলসে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
দগ্ধ ইব্রাহিমের ভাই মো. লাদেন মিয়া মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। আগুনে দোকানের প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি তার ভাইয়ের সুস্থতাসহ দোষীদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পরপরই রাতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার মাত্র আড়াই ঘণ্টা পর ওইদিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে পার্শ্ববর্তী সহিলাটি গ্রাম থেকে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার দুপুরে তাকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/এনএন