ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কনিষ্ঠ সদস্যদের অন্যতম হাসনাত আবদুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনয়নে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে একজন সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী জনপ্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে তিনি স্থানীয় জনগণসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৫৩ জন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাজধানীতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা সফরের আয়োজন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। শুধু আনুষ্ঠানিক ভ্রমণ নয়, শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, বিজ্ঞান ও ইতিহাস সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ পাঠাগার, সংসদ অধিবেশন কক্ষ, নভোথিয়েটার এবং বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পায়।
সফরের পুরো সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন তিনি। পরে বিভিন্ন স্থাপনার ইতিহাস, গুরুত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সেগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ। জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারে। সংসদ পাঠাগার ঘুরে দেখার পাশাপাশি তারা সংসদ অধিবেশন কক্ষের গ্যালারিতে বসে সরাসরি সংসদীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ লাভ করে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল জীবনের প্রথম এমন অভিজ্ঞতা।
এছাড়া নভোথিয়েটারে আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাকাশ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে তারা। বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে গিয়ে দেশের সামরিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবইয়ের বাইরের এ ধরনের শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, নেতৃত্বগুণ এবং দেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জবাবদিহির ক্ষেত্রেও ভিন্ন উদাহরণ তৈরি করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা জেলা পরিষদের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলে তিনি নীরব থাকেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এসে দীর্ঘ সময় ধরে বরাদ্দের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কোন প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং কোন প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে।
নিজের বক্তব্যে তিনি রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্যও স্পষ্ট করেন এবং প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেখানে অনেক সময় জনসাধারণের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, সেখানে প্রকাশ্যে তথ্য-উপাত্তসহ ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও সরব ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে এই তরুণ সংসদ সদস্যকে। সম্প্রতি পূর্বঘোষণা ছাড়াই দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে পাঁচজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি এবং রোগীদের কাছ থেকেও সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিক করতে নিয়মিত ব্রিফিং, উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে একজন সংসদ সদস্যের এমন সরাসরি তদারকি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকছেন। তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী এই তরুণ নেতা ইতোমধ্যে দেখিয়েছেন, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু সংসদে বক্তব্য দেওয়া নয়; বরং জনগণের পাশে থাকা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারে নজরদারি করা। একইসঙ্গে আগামী প্রজন্মকে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা এবং সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর এসব উদ্যোগের কারণেই দিন দিন সাধারণ মানুষের আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।