সরাসরি মাঠপর্যায়ে বাজার মনিটরিং বা তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় যশোর শার্শা উপজেলার গ্রামগঞ্জের বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের তোয়াক্কা না করে খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের মতো বাড়তি দামে সার বিক্রি করছেন। ফলে ফসল ফলানোর ভরা মৌসুমে এসে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামীণ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ৩১ থেকে ৩২ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি পটাশ ২৩ থেকে ২৫ টাকা, ডিএপি (ড্যাপ) ৩২ থেকে ৩৩ টাকা, মরক্কোর টিএসপি ৩৫ টাকা এবং তিউনিশিয়ার টিএসপি ৪৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ইউরিয়া ৫০ কেজির প্রতি বস্তা কিনতে হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। পটাশ ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১০৮০ টাকা। ডিএপি ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১৫০০ টাকা। টিএসপি (মরক্কো) ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১৬৫০ টাকা। টিএসপি (তিউনিশিয়া): ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ২১৫০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনের দিনগুলোতে সারের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। অথচ মাত্র গত মার্চ মাসেও সারের দাম বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কম ছিল। হঠাৎ করে সারের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম হুঁ হুঁ করে বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই দ্বিমুখী সংকটের কারণে চাষাবাদ ধরে রাখাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে খরচ বাড়তে থাকলে এবার বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতে সরকারি মনিটরিং জোরদার করা হোক এবং ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট ভেঙে সারের দাম সাধারণ চাষিদের নাগালের মধ্যে আনা হোক।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, কোনো ভোক্তা খোলা বাজারের বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বা ডিনারের বিরুদ্ধে বেশী দামে সার বিক্রির অভিযোগ আনেন তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই