দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, জামালপুর ও সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে গত ২৪ ঘণ্টায় পুশইন বা পুশইনের চেষ্টার কোনো ঘটনা না ঘটলেও সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। জেলার দর্শনা, জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত পারাপার রোধে নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তেও বিএসএফের কথিত পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি সূত্র জানায়, সম্প্রতি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী কিছু ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তা সফল হয়নি। ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে এবং কোনো ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে একজন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা কেন্দ্র করে বুধবার উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে ওই ব্যক্তি নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেন। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিটের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, একজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে সুন্দরবন উপকূলসংলগ্ন নদীপথেও বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে বিজিবি। নীলডুমুর ১৭ বিজিবি জানায়, ৮ জুন থেকে ১০ জুন ভোর পর্যন্ত ভারতীয় ৭৪ ও ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ১৫ থেকে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নদীপথসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজিব বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তজুড়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও এ কাজে সহযোগিতা করছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
সময়ের আলো/আআ