সংস্কারের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় আবারও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-চেওয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের রামগতি থেকে আজাদনগর ব্রিজ পর্যন্ত। কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, রামগতি কলেজ রোড, মনু মার্কেট, মুন্সিরহাট, বান্দেরহাট, গুচ্ছগ্রাম বাজার এবং আজাদনগর সেতু সংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কটি পুরোপুরি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। খানাখন্দে বর্ষার পানি জমে তৈরি হয়েছে মিনি ডোবা। এসব মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দিয়েই হেলেদুলে চলাচল করছে দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহন।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের এমন নাজুক অবস্থার কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলায় যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আগে যেখানে রামগতি থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর যেতে সময় লাগত মাত্র ৪০ মিনিট, সেখানে এখন ধীরগতি কিংবা বিকল্প পথে চলায় সময় লাগছে প্রায় দেড় ঘণ্টা। সময় বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রীরা।
দুর্ভোগের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে কাজ করার পরপরই সড়কটি আবার আগের মতো নষ্ট হয়ে গেছে। বর্ষার পানির সঙ্গে যোগাযোগের এই কষ্ট এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। আমরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ও টেকসই সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী স্নেহাল রায় জানান, সড়কটি মূলত গ্রামীণ হালকা যোগাযোগের উপযোগী করে তৈরি। তবে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত, অর্থাৎ ৪০ টনেরও বেশি ওজনের ভারী ইটবোঝাই ট্রাক নিয়মিত চলাচল করায় সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ লাঘবে খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সময়ের আলো/জোই