জোড়া লাগা দুই শিশুকে বাঁচানোর আকুতি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের দরিদ্র দম্পতি নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার। গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ

2026-07-28T23:08:23+00:00
2026-07-28T23:08:23+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
জোড়া লাগা দুই শিশুকে বাঁচানোর আকুতি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম 
বাবার কোলে জোড়ালাগানো দুই শিশু। ছবি : সময়ের আলো
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের দরিদ্র দম্পতি নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার। গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাদের কন্যাসন্তান জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্ম থেকেই বুক থেকে পেট পর্যন্ত অংশ একে অপরের সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত এই দুই শিশুর দুটি আলাদা মাথা, চার হাত ও চার পা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই দুই বোনকে আলাদা করা সম্ভব হলেও চরম আর্থিক অনটনে সেই আশার আলো এখন ফিকে হতে বসেছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, অপারেশন শুরুর আগে প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে শিশু দুটির শরীরে একাধিক জটিল পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন। জন্মের তিন মাস পর তাদের পুনরায় ঢাকায় এনে চিকিৎসা শুরুর কথা থাকলেও যাতায়াত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিপুল খরচ বহন করার কোনো সামর্থ্য নেই পরিবারটির।

শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান আগে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি দোকানে সামান্য বেতনে চাকরি করছেন। অসহায় বাবা বলেন, ডাক্তাররা আশা দিয়েছেন, আমার মেয়েদের আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু সেই চিকিৎসার বিশাল খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। সন্তানদের জন্য নিয়মিত দুধ কেনার টাকাই যেখানে জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাব কীভাবে?

মায়ের আকুতি জানিয়ে সানজিদা আক্তার বলেন, ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন সামান্য নড়াচড়া করলেই অন্যজন কষ্টে কেঁদে ওঠে। সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের জন্য ওদের নিয়মিত ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে, কিন্তু আমাদের সেই পথ এখন বন্ধ।


শিশুদের স্বজন মাহতাব উদ্দিন জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার খরচ সাধারণ কোনো পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে অবিলম্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

দৌলতপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকলে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।

দৌলতপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানিয়েছেন, শিশু দুটির চিকিৎসায় উপজেলা সমাজসেবা দফতরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের আশা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে জয়নব ও উম্মে কুলসুম হয়তো একটি সুন্দর ও পৃথক জীবন ফিরে পাবে, কেবল অর্থের অভাব যেন তাদের সেই সুন্দর ভবিষ্যতের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   জোড়া লাগা  শিশু  বাঁচানোর আকুতি  সময়ের আলো  কুষ্টিয়া 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: