ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিন সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা আর কোটি সমর্থকের আবেগ নিয়ে শুরু হয় চার বছর অপেক্ষার মহারণ। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দিনেও থাকছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া খেলবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচটি ১১ জুন মধ্যরাত অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ১টায় শুরু হবে। পরদিন সকাল ৮টায় কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র পরস্পরের বিপক্ষে লড়বে। গ্রুপ ‘এ’-এর এই চার দলের জন্যই প্রথম ম্যাচের ফলাফল হতে পারে পরবর্তী পথ চলার ভিত্তি।
স্বাগতিক মেক্সিকো কাগজে-কলমে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম তারা। নিজেদের মাটিতে খেলার সুবিধার পাশাপাশি দলটির রয়েছে বড় টুর্নামেন্টে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপের শেষ ১০ আসরের মধ্যে আটটিতেই নকআউট পর্বে খেলেছে মেক্সিকো। যদিও ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল, তবে এবার ঘরের মাঠে সেই হতাশা ভুলতে চায় দলটি।
মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় শক্তি আক্রমণভাগের গতি এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই তারা অন্যতম সেরা দল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রজন্মের কয়েকজন ফুটবলার দলে যোগ হওয়ায় স্কোয়াডে এসেছে ভারসাম্য। তার ওপর আজতেকা স্টেডিয়ামের পরিবেশ সবসময়ই প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই ভেন্যুতে খাপ খাওয়ানো সহজ নয়।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। ২০১০ সালে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের পর দীর্ঘ সময় বিশ্বমঞ্চের বাইরে ছিল তারা। এবার বাছাই পর্ব পেরিয়ে আবারও বিশ্বকাপে ফিরছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। কোচ হুগো ব্রুসের অধীনে দলটি রক্ষণভাগ বেশ সংগঠিত। আফ্রিকান দলগুলোর স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা ও গতি তাদের বড় সম্পদ।
দুদলের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এবারও দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য থাকবে অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে শুরু করা। অন্যদিকে স্বাগতিক মেক্সিকো চাইবে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের লড়াইকে গ্রুপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার অন্যতম সফল বিশ্বকাপ দল। ২০০২ সালে সেমিফাইনাল খেলেছিল তারা। এ ছাড়া ২০১০ ও ২০২২ সালে নকআউট পর্বেও জায়গা করে নেয়। ধারাবাহিকতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মানের কারণে এশিয়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য দল হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত কোরিয়ানরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার বড় শক্তি তাদের ফিটনেস, গতি এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল। ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে খেলা খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, উইং দিয়ে আক্রমণ এবং নিরলস পরিশ্রম তাদের খেলার বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র ইউরোপের এমন একটি দল, যারা বড় কোনো তারকাখচিত স্কোয়াড ছাড়াই নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। শক্তিশালী রক্ষণ, লম্বা গড়নের খেলোয়াড় এবং সেট-পিস থেকে গোল করার দক্ষতা তাদের অন্যতম অস্ত্র। ইউরোপিয়ান বাছাই পর্বে চেক প্রজাতন্ত্র যে সংগঠিত ফুটবল খেলেছে, সেটিই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
ফিফা র্যাঙ্কিং, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দক্ষিণ কোরিয়া সামান্য এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি যেকোনো দিকে যেতে পারে। কারণ চেক প্রজাতন্ত্র সাধারণত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আরও কার্যকর ফুটবল খেলতে পারে।
গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকোকে এগিয়ে রাখা হলেও দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি কেউ নিতে চাইবে না।
বিশ্বকাপের প্রথম দিনের এই দুই ম্যাচ তাই শুধু সূচনাই নয়, বরং চার দলের জন্য নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়ার মঞ্চ। স্বাগতিক মেক্সিকো ঘরের মাঠে উৎসবের শুরু করতে চায়, দক্ষিণ আফ্রিকা খুঁজছে চমক। দক্ষিণ কোরিয়া এগোতে চায় নকআউট স্বপ্নের পথে, আর চেক প্রজাতন্ত্র চাইবে ইউরোপীয় দৃঢ়তার ছাপ রাখতে। প্রথম দিনের দুই ম্যাচের ১৮০ মিনিটই হয়তো গ্রুপ ‘এ’-এর ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের অনেকটা দিক নির্ধারণ করে দেবে।
সূচি
মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা : রাত ১টা
দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র : সকাল ৮টা
সময়ের আলো/আআ