মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। বিগত সরকারের আমলে এলাকাটিকে একটি ‘মডেল পৌরসভা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রবাসননির্ভর অর্থনীতি এই উপজেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে এই অর্থনৈতিক নির্ভরতার পাশাপাশি এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণদের মধ্যে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ঘাটতির কারণে অনেক যুবক বৈধ আয়ের পথ বাদ দিয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২২ লাখ টাকার চুক্তিতে অনেক যুবক লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তাদের একটি অংশ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেও অনেকে দালালদের প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবি এবং লিবিয়ার মাফিয়াদের নির্যাতনে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী এক পরিবারের সদস্য বলেন, ‘১০ জানুয়ারি কথা হয় ছেলের সঙ্গে। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ। পরে দালাল জানায় ট্রলার ডুবে গেছে, বেশির ভাগের খোঁজ নেই। এরপর থেকে দালালের নম্বরও বন্ধ। আমার একমাত্র ছেলের লাশটা অন্তত ফেরত চাই।’
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে শিবচরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। যার ফলে তরুণদের মধ্যে অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।’
মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অনেক সময় অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার প্রত্যাশীরাই গোপনে দালালদের সঙ্গে চুক্তি করেন এবং স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের অনেকেই পরে অভিযোগ করতে চান না, ফলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
/এসএকে