সুরা ইউসুফে বর্ণিত হজরত ইউসুফ (আ.)-এর দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক কাহিনী নয়, বরং এটি দূরদর্শী পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আজকের সময়ের জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়।
মিসরের বাদশাহ স্বপ্নে সাত বছর সমৃদ্ধি ও সাত বছর কঠিন দুর্ভিক্ষের ইঙ্গিত পায়। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যায় ইউসুফ (আ.) আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রথম সাত বছর সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে এবং ফসলের বড় অংশ সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে পরবর্তী সংকটকাল মোকাবিলা করা যায়।
এই পরিকল্পনার মূলনীতি ছিল তিনটি- উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চয়, এবং অপচয় রোধ। তিনি জনগণকে অল্প ভোগ করে ভবিষ্যতের জন্য মজুত রাখতে উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত শস্য রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনে ন্যায্যভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা করেন, যাতে কেউ অভুক্ত না থাকে এবং বাজারে বিশৃঙ্খলা না হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপরিচালনায় যদি এসব বিষয় খেয়াল রাখা যায় এবং এভাবে পরিকল্পনা করে তাহলে রাষ্ট্রের চিত্র ভিন্ন হতে পারে।
এ সময়ে রাষ্ট্রীয় বাজেট ব্যবস্থার সঙ্গে ইউসুফ (আ.) নবীর পরিকল্পনার গভীর মিল রয়েছে। যেমন সরকার প্রথমে রাজস্ব ও সম্পদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করে, এরপর একটি অংশ উন্নয়ন ও চলতি ব্যয়ের জন্য রাখে, আর একটি অংশ ‘রিজার্ভ ফান্ড’ হিসেবে ভবিষ্যৎ সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক মন্দা বা বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার জন্য সংরক্ষণ করে। একইভাবে অপচয় কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা আধুনিক বাজেট ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইউসুফ (আ.) শুধু পরিকল্পনা করেই থেমে যাননি, বরং নিজেই পুরো খাদ্য বণ্টন ব্যবস্থা তদারকি করেছেন, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এতে প্রমাণ হয়, সঠিক নেতৃত্ব, স্বচ্ছ প্রশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা থাকলে বড় সংকটও সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব।
সারকথা হলো, ইউসুফ (আ.)-এর দুর্ভিক্ষ ব্যবস্থাপনা আমাদের শেখায়, ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার জন্য আজ থেকেই পরিকল্পনা, সঞ্চয় ও সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
/এসএকে