মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ পরীক্ষা। কখনও পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন হয়। আবার কখনও প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলফল আসে না । তাই খারাপ রেজাল্টকে জীবনের শেষ বলে মনে করা কিংবা এর কারণে হতাশায় ডুবে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেয় অনেকে। এমন সিদ্ধান্ত কখনোই সমাধান নয়। একটি মাত্র পরীক্ষার ফলাফল মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে জীবনেকে সাজানো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে কাজে লাগানো।
ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ৫৩)।
অর্থাৎ জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, মুমিনের জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না। আল্লাহর রহমত বান্দার ধারণার চেয়েও বেশি। ব্যর্থতা সফলতার পথে একটি শিক্ষা মাত্র। শিক্ষা নিতে পারলেই জীবন সুন্দর হবে এবং সফল হওয়া যাবে।
খারাপ ফলাফলের পর শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পরিবারের ভালোবাসা, সাহস ও সহযোগিতা। ‘তুমি কিছুই পারবে না’, ‘তোমার জীবন শেষ’, ‘তোমাকে দিয়ে কোনো কিছুই হবে না।’ এ ধরনের কথা শিশুর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। অন্যের সন্তান কিংবা সহপাঠীর সঙ্গে তুলনা করাও কখনোই উচিত নয়। বরং সন্তানকে বোঝাতে হবে, ‘এই ফলাফল তোমার পরিচয় নয়, তুমি আবার চেষ্টা করো।’
হতাশা দূর করতে প্রথমে নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল, কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, পর্যাপ্ত ঘুম, ইবাদত, দোয়া, পরিবার ও ভালো মানুষের সঙ্গে কথা বলা মানসিক শক্তি বাড়াতে পারে। প্রয়োজন হলে শিক্ষক, অভিভাবক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তাও নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, একটি পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া অসফলতা নয়, চেষ্টা ছেড়ে দেওয়াই প্রকৃত পরাজয়। জীবন আল্লাহর দেওয়া অমূল্য আমানত। তাই সাময়িক ব্যর্থতার কারণে সেই জীবন শেষ করে দেওয়া কোনোভাবেই সমাধান নয়। আজকের খারাপ ফলাফলই হয়তো আগামী দিনের বড় সাফল্যের শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে