নতুন সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে লাগাম টানা এবং বিলাসী জীবনযাত্রায় করের আওতা বাড়াতে ব্যক্তিগত একাধিক গাড়ির ওপর ‘পরিবেশ সারচার্জ’ বা কার্বন ট্যাক্স বহাল রেখেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার নামে একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার ও জিপ) থাকলে ইঞ্জিনের ক্ষমতা বা সিসি ভেদে বড় অংকের অগ্রিম কর দিতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, এই সারচার্জের হার আগের বছরের মতোই রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কার্বন ট্যাক্সের নতুন হারে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা (সিসি) অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে কার্বন ট্যাক্স ধরা হয়েছে ২৫,০০০ টাকা। ১৫০১ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির জন্য ট্যাক্স ৫০,০০০ টাকা এবং ২০০১ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে তা ৭৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫০১ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ওপর ১,৫০,০০০ টাকা এবং ৩৫০০ সিসির ওপরে গাড়ির ক্ষেত্রে ৩,৫০,০০০ টাকা কার্বন ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি ৭৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও একই হারে কার্বন ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে।
গাড়ি বিক্রেতাদের সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বাংলাদেশে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই ১৫০০ সিসির কম। ফলে একাধিক গাড়ির মালিকদের বড় অংশকেই সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হারে সারচার্জ দিতে হবে।
বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সংগৃহীত এই অর্থ সরাসরি পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় করা হবে। তবে সব ধরনের যানবাহনের ওপর এই কর প্রযোজ্য নয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত বাস, মিনিবাস এবং জরুরি সেবার যানবাহন যেমন—অ্যাম্বুলেন্স ও সরকারি ডিউটি সংশ্লিষ্ট সেবামূলক যানবাহন এই সারচার্জের আওতামুক্ত থাকবে।
আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবনা পেশ করবেন।
/ইউএমএইচ