২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন, রিফাইনিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আমদানি উৎস বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে বাপেক্সের মাধ্যমে ৬৯টি কূপ খননসহ একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে আগামী তিন বছরে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় শুধুমাত্র তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জ্বালানি তেল আমদানির ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের নিজস্ব স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে, জ্বালানি তেল রিফাইনিং ও মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল (ডিজেল) ও এলএনজির স্পট মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়েছি এবং জ্বালানি তেলের দাম সামান্য সমন্বয় করেছি। অন্যদিকে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছি।
মন্ত্রী বলেন, আগামী ৩ বছরে বাপেক্সের মাধ্যমে ২৭০ কি.মি ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ৭০০ লাইন কি.মি টু-ডি সাইসমিক জরিপ এবং ৭০০ বর্গ কি.মি থ্রি-ডি সাইসমিক জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন, মধ্যমেয়াদে বাপেক্স এর নিজস্ব রিগ দ্বারা ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন, জ্বালানি অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াতে নতুন অনুসন্ধান রিগ ক্রয়, সমুদ্রাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা, অফসোর গ্যাস অনুসন্ধান আকর্ষণীয় করার জন্য দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট সংশোধন, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎস বহুমুখীকরণ নীতি অনুসরণ, মহেশখালীতে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনা, মহেশখালীর মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণ, জ্বালানি তেল পরিবহণে নির্মিত ৬০১.৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার, জ্বালানি তেল খালাসে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালুর উদ্যোগ গ্রহণ,চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ৫০ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণ করা হবে।
/ইউএমএইচ