কিশোর ও কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কানাডা। দেশটি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কানাডার হাউজ অব কমন্সে বুধবার (১০ জুন) ‘সেফ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেন দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রী মার্ক মিলার। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য হলো শিশুদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং মানসিক প্রভাব থেকে রক্ষা করা।
মন্ত্রী মার্ক মিলার জানান, ডিজিটাল দুনিয়ায় শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এখন আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, অনলাইন ক্ষতির কারণে বাস্তব জীবনে শিশুদের মৃত্যু ও গুরুতর বিপদের ঘটনা বাড়ছে, যা সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন
এর আগে কানাডার লিবারেল সরকার দুই দফায় অনলাইন নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। তবে এবার আন্তর্জাতিক চাপ, অভিভাবকদের উদ্বেগ এবং অধিকারকর্মীদের দাবির কারণে নতুন করে আইনটি সামনে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বব্যাপী শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে আসন্ন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগেই এই বিলটি সামনে আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্মেলনে এআই প্রযুক্তি এবং শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ অবস্থান গ্রহণ করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত ‘বিল সি-৩৪’-এ মোট সাত ধরনের ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হয়রানি, ঘৃণা ছড়ানো, সহিংসতায় উসকানি এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য উপাদান।
আইনটি বাস্তবায়ন হলে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, এআই-চালিত চ্যাটবটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসবে।
এ জন্য আলাদা একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার নাম হবে ‘ডিজিটাল সেফটি কমিশন অব কানাডা’। এই সংস্থা আইন বাস্তবায়ন তদারকি করবে এবং প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত জরিমানার পরিমাণ অত্যন্ত কঠোর রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক আয়ের ৩ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
এএডি/