কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই নতুনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যা লয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের (৩২) বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাজীবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
মামলার এজাহার ও শিশুটির অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০ মে বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক এক শিক্ষার্থীকে ডিম ভাজার জন্য পেঁয়াজ কাটার কথা বলে একটি কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থী চিৎকার করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা।
ওই দিন বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। অভিযোগের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও নির্ধারিত বৈঠকে ওই শিক্ষক উপস্থিত হননি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার মীমাংসার জন্য অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার ২১ দিন পর থানায় অভিযোগ করার বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটির বাবা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এলাকাবাসী দায়িত্ব নিয়েছিল, এবং একটি পক্ষ আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছিল। আমরা গরীব মানুষ তাই ভয়ে এতদিন অভিযোগ করিনি।
এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। যেহেতু এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, তাই তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজীবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয় নি।
রাজীবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৫ (সংশোধিত)-এর ১০ ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলা তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সময়ের আলো/জোই