কুষ্টিয়া প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ছুটে এসেছিলেন এক চীনা নাগরিক। উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও এসএসসি পরীক্ষার্থী রিয়া আক্তারকে (১৮) বিয়ে করা। তবে প্রেমিকার বয়স কম হওয়ায় এবং আইনি জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই নিজ দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে তাকে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর পার সাঁওতাল গ্রামে এ চীনা নাগরিকের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭-৮ মাস আগে অ্যাপসের মাধ্যমে কুমারখালীর রিয়া ও চীনা যুবক হাইশানের (৩৯) পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে পরিচয় ও কথাবার্তার এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অবশেষে প্রেমের স্বীকৃতি দিতে বুধবার সকালের দিকে চীনের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন হাইশান। সেখান থেকে রিয়া ও তার পরিবারের লোকজন তাকে রিসিভ করে বিকেলে কুমারখালীর নিজ গ্রামে আনেন।
এ বিষয়ে রিয়া আক্তার জানায়, প্রায় ৭-৮ মাস আগে ‘বিটিএস’ অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হাইশান বুধবার বিকেলে তাদের বাসায় আসে। তবে রিয়া এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। এজন্য তার বয়স কম থাকায় পরিবারসহ অনেকে বিয়েতে অসম্মতি জানায়।
রিয়া আরও জানায়, পরবর্তীতে হাইশান যদি আবার আসে তাহলে তাকে বিয়ে করতে চায় সে। এদিকে বিয়ে না হওয়ায় হাইশান বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মেয়ের মা বলেন, ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হওয়ার পর সে আমাকে বিষয়টি বলেছে। বুধবার সে বাংলাদেশে এসেছে। মেয়ের বয়স না হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে দেবো না।
চীনা যুবক এম এ হাইশান বলেন, আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেম। এসেছিলাম বিয়ে করে দেশে ফিরবো। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়েটা হচ্ছে না। তবে আমি দেড়বছর অপেক্ষা করবো আমার প্রিয়তমার জন্য।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু বলেন, মেয়ে কেবল এসএসসি পরীক্ষার্থী, বয়স কম। এজন্য দুপুরে প্রশাসনের সহায়তায় চীনা যুবককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকায় চলে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, চীনা যুবককে প্রশাসনের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই