গত রোজার ঈদে শাকিব খানের বিগ বাজেটের ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়। এই বড় ধাক্কা সামলে উঠতে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা কুরবানির ঈদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আশা করা হয়েছিল, সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার মিউজিক্যাল ড্রামা ‘রকস্টার’ সিনেমাটি দিয়ে শাকিব খান আবারও বক্স অফিসে ঘুরে দাঁড়াবেন।
মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রত্যাশানুযায়ী সাড়া মেলেনি সিনেমাটি নিয়ে বরং মেলে বড় দুঃসংবাদ। মুক্তির এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই ‘রকস্টার’ সিনেমাটি ভয়াবহ পাইরেসির শিকার হয়েছে।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং একাধিক অবৈধ অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটির পুরো এইচডি কপি ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন স্ক্রিনশট ও পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুনির্দিষ্ট কিছু চক্র বিভিন্ন লিংকের মাধ্যমে সিনেমাটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিনামূল্যে শেয়ার করছে। দেশের বাজারে লোকসানের পর এই পাইরেসির ধাক্কায় সিনেমাটির আন্তর্জাতিক বাজারও এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।
শাকিব খানের সিনেমার ক্ষেত্রে পাইরেসি নতুন কোনো ঘটনা নয়, এটি এখন একটি নিয়মিত ও আশঙ্কাজনক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এর আগে তার অভিনীত এবং তুমুল আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স’, ‘বরবাদ’ ও ‘তাণ্ডব’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির পরপরই একইভাবে পাইরেসি চক্রের কবলে পড়েছিল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও চলচ্চিত্র প্রশাসন বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়নি।
তবে ‘রকস্টার’ পাইরেসির শিকার হলেও এর পরিচালক আজমন রুশো কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘রকস্টার’ সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে প্রধান নারী চরিত্রে জুটি বেঁধেছিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। এ ছাড়া গ্ল্যামার ও ভিন্নতা যোগ করতে সিনেমাটিতে যুক্ত করা হয়েছিল তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েককে।