‘পশুপ্রীতির পাশাপাশি একটু মানুষপ্রীতি দেখাতেন’, জয়া আহসানকে ইলোরা গহর

সময়ের আলো ডেস্ক

আনন্দ সময়

মডেলিং, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্র মিলিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে দুই বাংলায় দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন জয়া আহসান। গত এপ্রিল

2026-06-11T19:47:08+00:00
2026-06-11T19:47:08+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
আনন্দ সময়
‘পশুপ্রীতির পাশাপাশি একটু মানুষপ্রীতি দেখাতেন’, জয়া আহসানকে ইলোরা গহর
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ১২)
সংগৃহীত ছবি
মডেলিং, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্র মিলিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে দুই বাংলায় দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন জয়া আহসান। গত এপ্রিল মাসে এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান জানিয়েছিলেন, মাছ-মাংস খেতে তার এখন আর ভালো লাগে না। এগুলো খেতে গেলে তার মনে হয় তিনি কোনো প্রাণীকে হত্যা করছেন। জয়ার এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই তার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রবীণ অভিনেত্রী ইলোরা গহর।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইলোরা গহর জয়া আহসানের কড়া সমালোচনা করে বলেন, জয়া দুই বাংলাতেই সফলভাবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘ দিন ধরে চলচ্চিত্রে পুরস্কার পাচ্ছেন। তার লক্ষ্য ছিল সংসার নয়, বরং অ্যাওয়ার্ড আর নাম্বার ওয়ান টপ নায়িকা থাকা। সেই জায়গায় তিনি সফল। কিন্তু জয়া এখন প্রাণী হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। বলছেন যে তার মাছ-মাংস খেতে ভালো লাগছে না। কিন্তু আমরা তো সবাই নিরামিষভোজী হয়ে যাইনি। আমাদের মাংস খেতে ভালো লাগে। আমার নিজের গরুর মাংস ভীষণ ভালো লাগে। আমাদের ধর্মেও মাছ-মাংস খাওয়া জায়েজ। এতে কোনো প্রাণী হত্যা হয় না, এটা জয়াকে বুঝতে হবে। এই ধরনের মন্তব্য করার আগে ওর বোঝা উচিত ছিল যে আমরা বাংলাদেশে আছি এবং আমরা গরুর মাংস খাই।

জয়া আহসানকে পশুপ্রীতির পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, পশু হত্যা টাইপের কথা না বলে জয়ার উচিত ঢাকার বস্তিতে যাওয়া, অসহায় মানুষের জন্য কাজ করা। তাকে গ্রামে যেতে হবে না, এই শহরেই অনেক বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষ আছে। তিনি যদি পশুপ্রীতির পাশাপাশি একটু মানুষপ্রীতি দেখাতেন, তবে আরও ভালো হতো। জয়া হয়তো মানুষকে অনেক কিছু দেন, যা আমরা জানি না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি যেভাবে প্রকাশ করছেন যে মাংস খেতে তার বাজে লাগে, এগুলো বলা ঠিক নয়। কারণ এগুলো আমাদের দেশের মানুষ খাচ্ছে।

ইলোরা গহর আরও বলেন, জয়া স্বাস্থ্যগত কারণে মাংস না খাওয়ার কথা বলতে পারতেন, কিন্তু ‘পশু হত্যা করছি’— এই শব্দটা মানানসই নয়। আমাদের দেশের মানুষ খরগোশ খায় না, কিন্তু কবুতর খায়। গ্রামের মানুষ সবসময় গরুর মাংস খেতে পারে না, তবে তারা কখনোই এটাকে হত্যা বলে না। তাহলে জয়ার ভাষ্য অনুযায়ী কি আমাদের পবিত্র কোরবানিকেও পশু হত্যা বলা হবে?

নিজের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে ইলোরা বলেন, আমাদের বাসায় কোরবানি হতো না, কারণ আমার বাবা (প্রখ্যাত গীতিকার ও নাট্যকার নঈম গহর) এটার বিরোধী ছিলেন। কিন্তু আমার মা লুকিয়ে ভাগে কোরবানি দিতেন। কাজেই এটাকে কখনো পশু হত্যা বলা যাবে না।

জয়া আহসানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে ইলোরা গহর শেষাংশে বলেন, জয়া, আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। তুমি নিরামিষভোজী হয়ে গেছো, ফুলপ্রীতি দেখাচ্ছো, সবজি বাগান করছো— এগুলো খুবই ভালো কথা। কিন্তু দয়া করে পশুপ্রীতি দেখাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস বা ধর্মীয় রীতিকে ‘হত্যা’ বলা যাবে না।

/কহু


  বিষয়:   জয়া আহসান  ইলোরা গহর 


Loading...
Loading...
আনন্দ সময়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: