যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসন যখন চূড়ান্ত সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করছে, তখন পর্দার আড়ালে চুক্তির খসড়া পাঠ্য ক্রমাগত পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসলামি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন।
অধ্যাপক ইসলামি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত বৈশ্বিক বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার এই আকস্মিক ও আগাম দাবি করছেন।
মোহাম্মদ ইসলামি ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন আলোচনাকারীরা মূলত বর্তমান খসড়া সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
ইরানের মূল শর্তের কথা উল্লেখ করে এই বিশ্লেষক জানান, তেহরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তি সইয়ের একেবারে প্রাথমিক মুহূর্তেই যেন তারা তাদের অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হয়ে থাকা নিজস্ব অর্থ ফেরত পায়। বর্তমানে ইরানি প্রতিনিধিরা কাতারের সমকক্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এই অর্থ পুনরুদ্ধারের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির খসড়া ভাষা বা চূড়ান্ত বয়ান কেমন হবে, সে বিষয়ে শেষ কথা বলার একক এখতিয়ার কেবল ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই এবং তার উপদেষ্টা পরিষদের রয়েছে।
মোহাম্মদ ইসলামি স্পষ্ট করে বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একতরফা কোনো রাজনৈতিক বিজয় বা কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ দিতে চায় না। ফলে ওয়াশিংটন চুক্তি সইয়ের বিষয়ে যত তাড়াহুড়োই করুক না কেন, তেহরান নিজেদের স্বার্থ ও লাল রেখা নিশ্চিত না করে কোনো চূড়ান্ত নথিতে সই করবে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
/কহু