ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, কাতারে আটক করা হয়েছে বলে তেহরান যে ইরানি পাইলটদের দাবি করছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করতে ইরানি একটি দলকে কাতারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত। রোববার (১৬ আগস্ট) ইরানি সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে কাতার ইরানি কোনো পাইলটকে আটক করার কথা অস্বীকার করেছে। দোহা জানিয়েছে, মার্চে ইরানি একটি বিমান কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর সেটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কোনো সাড়া না পাওয়ায় কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পরে একজন পাইলটের মরদেহের সন্ধান পায়।
কাতার আরও জানিয়েছে, মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সমন্বয় করতে তারা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনা করার জন্য তেহরানকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। তবে কাতারের দাবি, ইরান এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানবিষয়ক কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ বলেছেন, ইরানের বিমানবাহিনীর একজন বিশেষজ্ঞসহ একটি তদন্তকারী দল কয়েক মাস ধরে কাতারে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
তার অভিযোগ, কাতারের কর্মকর্তারা বারবার তদন্তের বিষয়টি বিলম্বিত করছেন এবং পাইলটদের ইরানে ফেরানোর পথেও বাধা দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুয়েত নিয়েও ইরানের অভিযোগ
কাতারের পাশাপাশি কুয়েতের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন বাঘেরজাদেহ। তার দাবি, কুয়েতে আটক থাকা চার ইরানির ভাগ্য সম্পর্কেও দেশটি প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে না।
এর আগে মে মাসে ইরান জানিয়েছিল, ওই চার ব্যক্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি-এর সঙ্গে যুক্ত এবং নৌ টহলে থাকা অবস্থায় নেভিগেশন ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে ভুল করে কুয়েতের জলসীমায় ঢুকে পড়েছিলেন।
তবে কুয়েতের দাবি, ওই চারজনের বিরুদ্ধে দেশটির ওপর শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করার সন্দেহ রয়েছে।
অর্থাৎ, কাতার ও কুয়েত যেখানে আটক বা নিখোঁজ ইরানি সেনা সদস্যদের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে, সেখানে তেহরান দাবি করছে, তাদের নাগরিক ও সামরিক সদস্যদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা হচ্ছে এবং তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ