বেলজিয়ামে রেকর্ড গড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। পূর্বাঞ্চলের হাই ফেনস এলাকায় শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি পুড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের একটি অংশ জার্মান সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) আগুন নিয়ন্ত্রণে বেলজিয়ামের দমকল বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছে নেদারল্যান্ডসের হেলিকপ্টারও। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, কৃষক এবং প্রতিবেশী দেশ জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের দমকলকর্মীরাও সহযোগিতা করছেন।
ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের প্রশাসনের মুখপাত্র স্টেফানি এরনু জানান, জার্মানির দিকে এগিয়ে যাওয়া আগুন ঠেকানোই রোববার উদ্ধারকর্মীদের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন থেকে সুরক্ষার জন্য আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য তৈরি প্রতিরোধব্যবস্থা এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে শনিবার যেসব বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের আপাতত বাড়িতে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের (ইএফএফআইএস) তথ্য অনুযায়ী, এটি বেলজিয়ামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানল। এর আগে, ২০১১ সালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকায় যে দাবানল হয়েছিল, এবারের আগুন তার দ্বিগুণেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন
দাবানলের ভয়াবহতা নিয়ে দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা করিম বুয়ারফা বলেন, এত বড় মাত্রার আগুন বেলজিয়ামে দেখা যাবে— এমনটা তারা কখনো ভাবেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দাবানল আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, সীমান্তবর্তী জার্মান শহর মন্সশাউ কর্তৃপক্ষ রোববার সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন সরাসরি জার্মান ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আশঙ্কা নেই। তবে ধোঁয়ার কারণে সেখানে বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আগুনের ভয়াবহতা মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নও সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। বেলজিয়ামের জরুরি সহায়তার অনুরোধের পর শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি পানি ছোড়ার বিমান পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে বনাঞ্চলের গাছপালা অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। ফলে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা দাবানলকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে সহায়তা করছে।
শুধু বেলজিয়াম নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গ্রিসের সালামিনা দ্বীপে রোববার দাবানলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আর স্পেনের আরাগনে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি দাবানল ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে ফ্রান্স থেকে প্রায় ১০০ দমকলকর্মী পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ