চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে এক বড় ধরণের কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ৪টি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের জন্য শত শত কোটি ডলার ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। সম্প্রতি ধনী এই পারস্য উপসাগরীয় দেশটির ওপর ইরানের দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি শান্ত করার অংশ হিসেবেই এই প্রচ্ছন্ন সমঝোতা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই খবর প্রকাশের পরপরই শনিবার (১৩ জুন) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান স্থায়ী যুদ্ধ অবসানের চূড়ান্ত আলোচনার সমান্তরালেই আমিরাতের এই নেপথ্য পদক্ষেপটি সামনে এসেছে। আঞ্চলিক দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইউএই মোট ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলার ছাড় দিতে রাজি হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলার তেহরানের হাতে পৌঁছে গেছে। তবে অন্য দুটি সূত্র এই অংকের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বলে দাবি করেছে।
এই বিশাল অর্থ আমিরাতের নিজস্ব তহবিল থেকে নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির ব্যাংকিং সিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের তেলের রাজস্ব থেকে দেওয়া হচ্ছে, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই অর্থ ছাড়ের পেছনে মূল শর্ত ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৪ মে ওমান উপসাগরে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে সর্বশেষ সরাসরি হামলা চালিয়েছিল ইরান। এরপর থেকে সেখানে আর কোনো ইরানি হামলা হয়নি। এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে। আরও জানা গেছে, ইরান একই ধরণের সমঝোতার জন্য উপসাগরীয় আরও অন্তত দুটি দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
ইউএই-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, ইরানের কোনো অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করা তহবিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ছাড়, স্থানান্তর বা সহজতর করা হয়নি। ৩ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অবশ্য এর আগে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে এক আমিরাতি কর্মকর্তা সরাসরি অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার না করে বলেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র নীতি সর্বদা এই অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
এই বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন, কেবল চুক্তি সই বা বৈঠকে বসার জন্য ইরানকে কোনো অবরুদ্ধ তহবিল দেওয়া হবে না। ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাসহ সমস্ত প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি রক্ষা করে, তবেই পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা পাবে।
খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইরানের প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডসের কর্মকর্তারা আবুধাবি সফর করে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে বৈঠক করার পরই এই কূটনৈতিক ও আর্থিক আলোচনার গতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।
/কহু