দুনিয়ার জীবন আসলে পরীক্ষার জীবন। দুনিয়ায় মানুষকে সুখ আর ভোগ-বিলাসিতার জন্য পাঠানো হয়নি, বরং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতির জন্য পাঠানো হয়েছে। তাই দুনিয়ায় সুখের পাশাপাশি দুঃখ, সুস্থতার পাশাপাশি অসুস্থতা এবং হাসির পাশাপাশি কান্না থাকবে। কোনো মানুষই স্থায়ীভাবে সুখে বা দুঃখে থাকে না। আল্লাহ তায়ালা এই পরিবর্তনশীল জীবন দিয়েছেন, যাতে মানুষ ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা শিখে এবং পরকালকে স্মরণে রাখে। মুমিনের মূল লক্ষ্য যেহেতু আখেরাত, তাই দুনিয়ার কষ্ট তার জন্য হতাশার কারণ নয়, বরং তা পরীক্ষা ও পুরস্কারের মাধ্যম।
কোরআন আমাদের বারবার এই শিক্ষা দেয় যে, বিপদে হতাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে’ (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত : ৫-৬)।
আবার তিনি বলেন, ‘তোমরা যা অপছন্দ কর, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে’। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৬)।
এই নির্দেশনা আমাদের শেখায়, জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতির পেছনে আল্লাহর হিকমত রয়েছে, যা আমরা সবসময় বুঝতে পারি না।
হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনের ঘটনা আমাদের জন্য বড়ো শিক্ষা। তিনি প্রিয় পুত্র ইউসুফ (আ.)-কে হারিয়ে দীর্ঘদিন কষ্টে ছিলেন, আবার অন্য সন্তান হারিয়েও ধৈর্য হারাননি।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার দুঃখের অভিযোগ আল্লাহর কাছেই করছি’ এবং সন্তানদের উপদেশ দেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না’। (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৬-৮৭)।
এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, যত বড়ো বিপদই আসুক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।
আল্লাহ আরও বলেন, ‘কোনো বিপদই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আসে না’। এবং ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং অপ্রত্যাশিত রিজিক দান করেন’। (সুরা তাগাবুন, আয়াত : ১১, সূরা তালাক ৬৫ : ২-৩)।
এসব আয়াত আমাদের ধৈর্য, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখতে শেখায়।
সুতরাং, দুনিয়ার বিপদে হতাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা, দোয়া করা, কোরআনের নির্দেশনা স্মরণ করা এবং সৎ মানুষের সঙ্গ নেওয়া উচিত। এতে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে এবং দুঃখও আখেরাতের সওয়াব ও নৈকট্যের মাধ্যম হয়ে যায়।
/এসএকে