চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর মাঠপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত আলোমতি (৪৫) কে গাঁজা বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাদক ব্যবসায়ী আলোমতি (৪৫) গোবিন্দপুর মাঠ পাড়ার রুবেলের স্ত্রী ও মাদক সম্রাজ্ঞী মিনির মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন আলোমতি দুই মাদকসেবীর কাছে গাঁজা বিক্রি করেন। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী ওই দুই ক্রেতাকে আটক করার চেষ্টা করলে তারা গাঁজা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আলোমতিকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আলোমতি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বারবার আইনের আওতায় এলেও তিনি মাদক কারবার থেকে সরে আসেননি। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালতে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের অপরাধে আলোমতিকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা, আলমডাঙ্গা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজ জানান, মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গোবিন্দপুর মাঠপাড়ায় মাদক বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
রায়ের পর এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান দাবি করেন এবং গোবিন্দপুর মাঠপাড়াকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
/মহু