কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে নতুন পানি আসাকে কেন্দ্র করে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থীর আনাগোনা। এখনও পুরোপুরিভাবে বর্ষার পানি না এলেও, খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও হাওরপাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা আসছেন এখানে। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার ছুটির দিনে বিকেলের দিকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিকলী উপজেলার বেড়িবাঁধে ভিড় করেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারও দর্শনার্থী।
ঘুরতে আসা জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, শহরের যান্ত্রিক জীবন ও ব্যস্ততা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই তারা হাওরে এসেছেন। পুরোপুরি পানি না এলেও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে।
দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ঘিরে সড়কের পাশে অস্থায়ী বিভিন্ন দোকানও বসেছে। বেড়েছে ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল। ফলে কিছু কিছু স্থানে ধীরগতির যান চলাচলের চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে নিকলী হাওর দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মধ্যে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে নিকলী বেড়িবাঁধ। ২০০০ সালের দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলা সদরকে বর্ষায় ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় সরকার সাড়ে ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। এ ছাড়া উপজেলার ছাতিরচর গ্রামের ভাঙনরোধে রোপণ করা হয় হাজারও করচগাছ। হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সারাদেশের মানুষ বর্ষা মৌসুমে ছুটে আসে নিকলী হাওরে। তাই নিকলীকে ‘হাওর পর্যটনকেন্দ্র’ বলা হয়ে থাকে।
পর্যটকদের আনন্দ উল্লাস বাড়িয়ে দিতে এখানে রয়েছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। হোটেল, রেস্তোরাঁয় মিলছে রুচিসম্মত খাবার। এ ছাড়া রয়েছে মাটির বানানো হাতি, ঘোড়া, মুরগীসহ বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী। রাস্তার পাশে অস্থায়ী মুড়ি, ফুচকা, বুট, বাদাম, চটপটির দোকান। যাতায়াতের জন্য রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে একদিকে যেমন দূরদুরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা আনন্দ উপভোগ করতে পারছে, অন্যদিকে বেকার যুবকদের মিলছে কর্মসংস্থান। পর্যটকদের আগমনে উপজেলার কয়েক হাজার মাঝিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি জানান, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বেড়িবাঁধ এলাকায় সিভিল ও পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছেন। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ধরনের সুবিধা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের দেওয়া হচ্ছে।
/মহু