পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হলেও লক্ষ্মীপুরে কাটেনি ঈদের আমেজ। জেলার কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মতির হাট লঞ্চঘাট ও টার্মিনাল এলাকায় এখনও মুখরিত হয়ে আছে হাজারো দর্শনার্থীর কোলাহলে। বিস্তীর্ণ জলরাশি ও চারপাশের মনোরম পরিবেশের কারণে স্থানটি এখন দর্শনার্থীদের কাছে ‘মিনি রাঙামাটি’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি ঈদেই মতির হাট ঘাট এলাকা দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়। শুধু কমলনগর বা লক্ষ্মীপুর জেলাই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসেন।
দর্শনার্থীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে স্থানীয় নৌকার মাঝি ও স্পিডবোট চালকরা বিশেষ ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছেন। মতির হাট ঘাটের স্থানীয় নৌকাচালক আবু মাঝি জানান, দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে তারা জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় নৌকা ভ্রমণ এবং ১০০ টাকা ভাড়ায় স্পিডবোটে মেঘনা নদী ঘুরিয়ে দেখার ব্যবস্থা করেছেন। নৌকা ও স্পিডবোটের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নদী পার করে চর রমণী ও চর সামছুদ্দীন এই দুটি মনোরম চরে ঘুরিয়ে আনা হয়। চরের বুকে ঘুরে বেড়ানো এবং নদী ভ্রমণের এই রোমাঞ্চ উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা বেশ আনন্দ পাচ্ছেন।
মানিক নামের এক দর্শনার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখানে এসেছি। স্পিডবোটে চড়ে নদীতে ঘুরে বেড়ানোটা আমাদের ভীষণ আনন্দের লেগেছে।’
সিমা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘নৌকা থেকে নেমে চরের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে পেরে দারুণ লেগেছে।’
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা কিশোর নজরুল ইসলাম জানায়, চরে গিয়ে ফাঁকা মাঠে তারা বন্ধুরা মিলে কিছুক্ষণ ফুটবল খেলেছে। মেঘনার বুকে এমন অভিজ্ঞতা তাদের জন্য সত্যিই অন্যরকম ও স্মরণীয়।
নদীর ঢেউ, চরের উন্মুক্ত বাতাস ও পড়ন্ত বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এবং অল্প খরচে কাপ্তাই লেকের মতো অনুভূতি পাওয়ায় প্রতি ঈদেই তারা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে মতির হাট এলাকাটি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সঠিক তদারকি ও প্রচারের মাধ্যমে এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেশজুড়ে আরও সমাদৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/মহু