খাল খনন শেষে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা ফেরত দিলেন আমতলীর ইউএনও

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বরগুনায় অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় খাল খননের কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন

2026-08-13T16:20:28+00:00
2026-08-13T16:42:55+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
খাল খনন শেষে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা ফেরত দিলেন আমতলীর ইউএনও
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২০ পিএম  আপডেট: ১৩.০৮.২০২৬ ৪:৪২ পিএম
ইউএনও মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
বরগুনায় অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় খাল খননের কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী। সরকারি অর্থ সাশ্রয় ও স্বচ্ছতার এমন উদ্যোগে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

প্রকল্পের কাজ শেষ করার পর অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে ভালো কাজের উৎসাহ দিতে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএনওসহ দেশের ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে আমতলীর খাল খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী এবং উপজেলা উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় আমতলী উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৮ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার অংশ খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়।


দুটি প্রকল্পে মোট ৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী খননকাজে অংশ নেন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কাজের তদারকিতে ছিলেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী।

খননকাজ শেষ হওয়ার পর খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। সব কাজ শেষে অব্যবহৃত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকল্পের উপকারভোগী এইচএম কাওসার মাদবর ও রুবেল হাওলাদার বলেন, কেওয়াবুনিয়া খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। শুকনো মৌসুমে সেচের পানির সংকটের কারণে আগে রবি শস্য চাষে সমস্যা হতো। খালে পানি ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়ায় এখন কৃষকেরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চাষাবাদ করতে পারবেন।

তারা বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই পাড়ে গাছ লাগানোয় এলাকার সৌন্দর্যও বেড়েছে। এমন উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন তারা।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা ও প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষে অব্যবহৃত অর্থের একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, খাল পুনঃখনন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, দুটি খাল খননের জন্য মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ ছিল। কাজ ও বৃক্ষরোপণ শেষ করার পর অব্যবহৃত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজ শেষে অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার এমন উদ্যোগ প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। পাশাপাশি খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   খাল খনন  টাকা ফেরত  আমতলী  ইউএনও  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: