লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকের হোসেনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বালুর ব্যবসা চলায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বিশাল আকারের বালুর স্তূপ। প্রতিদিন ট্রাকযোগে বালু আনা-নেওয়ার কারণে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ও খেলাধুলা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বালুর কারণে চোখ-মুখে ধুলো ঢুকে যায়। জামাকাপড়, বই-খাতা নষ্ট হয়। ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সরকার কি বালু ব্যবসার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে? আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
আরেক অভিভাবক স্বপন মিয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনা করা উচিত।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বালুর ধুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাকের হোসেন মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল। সে কারণে বিদ্যালয়ের মাঠটি একটি বালু কোম্পানির কাছে পাঁচ বছরের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। চুক্তির এখনও প্রায় আড়াই বছর বাকি রয়েছে।’
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শুধু মাঠ ভাড়াই দেননি, একই নাম ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত। তবে এসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ধনু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে বালু মজুত করে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটিয়ে অর্থ উপার্জন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিষয়টি সম্পর্কে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
খেলার মাঠ দ্রুত বালুমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী।
/এসএকে