ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’-এর শীর্ষ নেতা হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গুয়েরেরো ফ্লোরেস ওরফে ‘নিনো গুয়েরেরো’ মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন ও মাদক চোরাচালানকারী কার্টেল হিসেবে চিহ্নিত এই গোষ্ঠীর প্রধানকে মার্কিন বাহিনীর এক অতর্কিত হামলায় হত্যা করা হয়।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প জানান, তার সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড এক অত্যন্ত দ্রুত ও প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়ে নিনো গুয়েরেরোকে সফলভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানে ভেনেজুয়েলা সরকারও সরাসরি সহযোগিতা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্র বলিভারে অপরাধী চক্রের সঙ্গে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধের সময় ফ্লোরেস নিহত হন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলায় ত্রেন দে আরাগুয়ার একটি আস্তানা লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। এই গোলার্ধ থেকে মাদক-সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ এই সফল অভিযান।
৪২ বছর বয়সী গ্যাং লিডার ফ্লোরেস ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলার তোকোরন কারাগার থেকে পুলিশের এক বড় অভিযানের ঠিক আগ মুহূর্তে অন্য সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যান। গত বছরের ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের একটি আদালতে তাঁর অনুপস্থিতিতেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার একটি কুখ্যাত কারাগার থেকে উৎপত্তি হওয়া এই অপরাধী চক্রটির বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রায় ৭ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গ্যাংটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনা, পেরু, কানাডা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোও এই দলটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে এই গ্যাংয়ের ছোট ছোট নৌকা লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই মার্কিন অভিযানগুলোর বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। নিহতদের অনেকের পরিবার দাবি করেছে, তারা সাধারণ মৎস্যজীবী ছিলেন। কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম ভূখণ্ডে ঢুকে এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো মার্কিন ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রচ্ছন্ন আশ্রয়েই এই গ্যাংটি ডালপালা মেলেছে। এই উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারী মাসে কারাকাসে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে এক অতর্কিত কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা। মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল মাদক মামলার আসামি হিসেবে বন্দী রয়েছেন।
/কহু