২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গোলবন্যার এক মহোৎসব দেখালো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাওকে ৭–১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল। এই বিশাল জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির সেই ঐতিহাসিক ৭–১ গোলের স্মৃতিকে।
ম্যাচের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে মাঠে নামে কুরাসাও। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটিকে যখন জাতীয় সঙ্গীতের সময় আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়, তখনই রচিত হয় বিশ্বকাপের এক নতুন অধ্যায়। তবে মাঠের লড়াইয়ে নামতেই তাদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করে জার্মানি। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি নবাগত কুরাসাও। ২১ মিনিটে হিউস্টন স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়ে জার্মানির জালে বল পাঠায় তারা। বক্সের ভেতর থেকে রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়ার দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শট পরাস্ত করে কিংবদন্তি জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোলের পর রেসলার জন সিনার ভঙ্গিতে উল্লাসে মেতে ওঠেন কোমেনেনসিয়া, আর গ্যালারির নীল ঢেউয়ে তখন ইতিহাস গড়ার গর্জন।
তবে কুরাসাওয়ের এই সমতার আনন্দ স্থায়ী হয়েছে মাত্র ১৭ মিনিট। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে সহজ হেডে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতর এনমেচা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। সফল স্পট-কিকে স্কোরলাইন ৩–১ করেন ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ।
ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির সময় ডাগআউটেও এক অনন্য ইতিহাস তৈরি হয়। কুরাসাওয়ের ৭৮ বছর বয়সী প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট এবং জার্মানির ৩৮ বছর বয়সী কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ছিল ঠিক ৪০ বছর, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে মুখোমুখি হওয়া দুই কোচের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিরতির পর ম্যাচটি রূপ নেয় জার্মানির একক মহড়ায়। ম্যাচের শুরুতেই ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৪–১ করেন জামাল মুসিয়ালা। আক্রমণের গতি ধরে রেখে ৬৮ মিনিটে লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন এবং ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ গোল করলে জার্মানি এগিয়ে যায় ৬–১ ব্যবধানে। ম্যাচের একটি অনন্য দিক ছিল জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই এসেছে আলাদা ছয়জন খেলোয়াড়ের পা থেকে।
ম্যাচের শেষ দিকে কুরাসাওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন কাই হাভার্টজ। ডেনিজ উনদাভের গোলের ঠিক পরেই ম্যাচের ৭ম এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনে মাতেন এই ফরোয়ার্ড। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ৭–১ গোলের এক বিশাল জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির। প্রথম ম্যাচে কুরাসাও ইতিহাস গড়লেও, শেষ পর্যন্ত জার্মানির গোলবন্যার কাছে বড় ব্যবধানে হার দিয়েই শুরু হলো তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
সময়ের আলো/জেডি